BANNER CREDITS: RITUPARNA CHATTERJEE
A woman with the potential to make it big. It is not that she cannot: she simply will not.
PHOTO CREDITS: ANIESHA BRAHMA
The closest anyone has come to being an adopted daughter.

Sunday, October 27, 2019

পহ্‌লা অভ্‌তার


অনেকদিন ধরে লিখব-লিখব করেও নানা কারণে এটা লেখা হয়ে ওঠেনি।

প্রথমে মাছের বাজারের ব্যাপারটা বলি। আমি মূলতঃ তিনটে জায়গা থেকে মাছ কিনি:
-      বাড়ির কাছের একটা মাছের বাজার। এখানে মূলতঃ মরাঠিরা যায়। এখানে সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়, যা ওরা অসম্ভব তৎপরতার সঙ্গে কাটারি দিয়ে কাটে। “বাঙালি মাছ” বলতে পাওয়া যায় লোটে (বম্বিল) আর আমুদি (মান্ডেলি)। আমি সবরকম মাছ তৃপ্তি করে খাই, কিন্তু আমি ভালবাসলেও আঁশটে গন্ধ বাড়ির সবার মুখে রোচে না।
-      আইআইটির উল্টোদিকের বাজার। এটা বাঙালিদের আখড়া (মাছওয়ালাও বাঙালি)। এটা একটু দূরে হলেও কলকাতা থেকে মোটামুটি অনেক মাছই আসে।
-      বিগ বাজার। এটা একটু কাছে। এখানে রুই-কাতলা-পারশে তো পাওয়া যায়ই, ভেটকি-পাবদা-ট্যাংরা দিব্যি পাওয়া যায়, তবে আড়-চেতল-মৌরলা-কাজরী পাওয়া যায় না। বাড়তি সুবিধে হল এটা মলের মধ্যে, কাজেই সিনেমা দেখে বাজার করে ফেরা যায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই এখানে বাঙালি-অবাঙালি সবাই আসে।

মাছের প্রসঙ্গে বলি, কলকাতায় থাকতে বাসাকে আমি কখনও সিরিয়সলি নিইনি। এখানে এসে মনে হয়েছে হয় কলকাতারটা বাসা নয়ত বম্বেরটা। দু’টো এক মাছ হতেই পারে না। স্বাদ সম্পূর্ণ আলাদা (ভাল-খারাপ নয়; আলাদা)। তেলতেলে বড় বাসার স্বাদ অপূর্ব – তবে ঐ, যদি মাছের তেল ভাল লাগে তবেই।

কলকাতার মানুষ বম্বে ভেটকিকে যেমন তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে, আমার ধারণা বম্বের মানুষ কলকাতা বাসাকে নিয়ে একইরকম নাক সিঁটকোয়।

যাকগে, ঘটনায় ফিরি। এটা বিগ বাজারে। ও হ্যাঁ, এখানে গাদা-পেটি আলাদা করে কাটার রীতি নেই, সবই ঐ চাকা-চাকা। গাদা-পেটির জন্য আলাদাভাবে বলতে হয়; তাকে বলে বেঙ্গলি কাট।

যাকগে, আমি তো চিংড়ি ছাড়াতে আর কিছু বেঙ্গলি কাট করতে দিয়ে টুথপিক দিয়ে ফ্রী স্যাম্পল রেশমি কাবাব খাচ্ছিলাম। মাছ কাটা হয় আলাদা একটা ছোট ঘরে, বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে।

এমন সময় শুনি এক বাঙালি দম্পতি মাছ কেনার চেষ্টা করছেন। বছর ষাটেক বয়স। বুঝতে পারলাম এখানে নতুন এসেছেন, কারণ “হিঁইঁইঁইঁইঁইঁইঁইঁইঁইঁ, মাছের দাম দেখেছ?”র স্টেজটা এখনও আছে। খুব সম্ভবতঃ প্রবাসী ছেলে বা মেয়ের কাছে থাকতে এসেছেন, কারণ এই বয়সে শহর ছাড়াটা বেশ অস্বাভাবিক।

তবে হিন্দিটা, ইয়ে, আমার থেকে শুধু না, আমার মার থেকেও খারাপ, অনেকটা আমার মরাঠির সঙ্গে তুলনীয়।

যাকগে, সেদিন কাতলার ভাল স্টক ছিল। একটা বড়সড় গোছের কাতলা মাছ বাছলেন ওঁরা। কাতলাকে হিন্দিতে (সম্ভবতঃ মরাঠিতেও) কাতলাই বলে, তার ওপর লেবেল ছিল। দামের ট্যাগ থাকায় কাজেই একটা স্টেপ বাঁচল। ওজনও হয়ে গেল। এবার কাটানোর পালা।

এখানে একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ হল। মেয়েটা যত আরতি করার মত আঙুল ঘুরিয়ে চাকা-চাকা বোঝাতে চায়, ভদ্রলোক তত ক্যারাটে চপের সাহায্যে গাদা-পেটি বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকেন। সেখানেই শেষ নয়: পাশ থেকে ভদ্রমহিলা হাত নেড়ে তারস্বরে গাদাপেটিগাদাপেটিগাদাপেটি র‍্যাপ করে চলেছেন। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।

শেষ অবধি মেয়েটাই সমাধান করল। জিজ্ঞেস করল, “বেঙ্গলি?”

ভদ্রমহিলা সগর্বে উত্তর দিলেন “বেঙ্গলি”।

“বেঙ্গলি কাট?”

এবার ওঁরা বেশ হকচকিয়ে গেলেন। যাওয়াটাই স্বাভাবিক। একে “বেঙ্গলি কাট” বলছে, তার ওপর পাশের ঘরে বৈদ্যুতিক করাত।

আমার হয়ত সাহায্য করা উচিত ছিল, কিন্তু আমি তখন বাকরুদ্ধ। হাতের টুথপিক হাতেই, সে আর মুখে উঠছে না।

কীভাবে যে বোঝা গেল তা ঠিক মনে নেই, তবে একটা সময় দেখলাম দু’পক্ষই বুঝে ফেলল বেঙ্গলি কাট আর ক্যারাটে চপ দুটো একই ব্যাপার।

আর তারপরেই মারাত্মক ব্যাপারটা হল।

কাটতে নিয়ে যাওয়ার ঠিক আগে ভদ্রলোক ধেয়ে এসে চিৎকার করে বললেন “পূঁছ কি কঙ্গী চাহিয়ে।”

এটা আমার রেঞ্জের বাইরে। আমি আখের রসের দোকানে “আঁখ কা রস দিজিয়ে” শুনেছি, “বঢ়িয়া”র বিপরীত হিসেবে “ছোটিয়া” শুনেছি, কিন্তু এটা অশ্রুতপূর্ব।

খানিকক্ষণ ভেবেটেবে একটা আন্দাজ করলাম। বড় কাতলার ল্যাজা বেশ মোটা হয়, কাজেই |||||||| জাতীয় একটা চিরুনিগোছের চর্বিভরা ব্যাপার থাকে, আমি বেশ ভালবাসি, নির্ঘাত ওঁদের বাড়িতেও কেউ না কেউ ভালবাসে। মাছ যেহেতু ল্যাজ আঁচড়ায় না, আমার ধারণা সেটাই বোঝাতে চাইছিলেন।

মেয়েটার জীবনেও খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রথম। রুইকাতলা থাকলে বাঙালি আসবেই, কাজেই ওরা বাঙালির হিন্দি শুনে অভ্যস্ত। আমার হিন্দি বোঝা চাট্টিখানি কথা নয়, কিন্তু দিব্যি বোঝে।

কিন্তু এটা এতই আউট অফ সিলেবাস যে মাধ্যমিকে এলে নির্ঘাত ভাঙচুর হত।

এবার ভদ্রমহিলা ফীল্ডে নামলেন। মাছটা বৈদ্যুতিক দাঁড়িপাল্লায় আবার শোয়ানো হল। তারপর দেখি ভদ্রমহিলা ল্যাজার ইঞ্চি ওপরে হাওয়ায় আঙুল দিয়ে অসম্ভব গতিতে কীসব এঁকে চলেছেন। মেয়েটাও তার উত্তরে কীসব আঁকল। দু’জনেই নীরব, কিন্তু হাত চলছে ঝড়ের গতিতে। খুব ছোট টেবিলে পিংপং খেলার মত এই ডাম শ্যারাড চলল বেশ খানিকক্ষণ।

আমি হলে পূঁছ গুটিয়ে পালাতাম, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মেয়েটা বুঝল। কী বুঝল সেই জানে, কিন্তু দেখলাম ভদ্রমহিলা বেশ সন্তুষ্ট। দু’জনে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে মাথা নাড়লেন।

ভদ্রমহিলার হিন্দিজ্ঞান সীমিত হতে পারে, কিন্তু আমি নিশ্চিত যে উনি বিশ্বের যেকোনও প্রান্তে পছন্দমাফিক মাছ কাটাতে পারতেন। মহীয়সী মহিলা।

আমার মাছ ততক্ষণে কাটানো হয়ে গেছিল। শেষ অবধি দাঁড়াইনি। আশাকরি ওঁদের পাতে সেদিন চিরুনি পড়েছিল।

Saturday, October 12, 2019

উপেনের কথা

আগেই বলে রাখি, এই পোস্টে কয়েকটা ছবি আছে। আমার ছবি আঁকার হাত জঘন্য। স্কেল মিলবে না।

*

উপেন লোকটা কয়েকদিন ধরেই বেশ ভাবাচ্ছে। পুরো ব্যাপারটা লিখে রাখা ভাল।

উপেনের জমির মাপ ছিল দু’বিঘে। বিঘে বলতে ঠিক কতটা বোঝায় তা নিয়ে আমার একটা ভাসা-ভাসা ধারণা ছিল। সার্চ করতে গিয়ে দেখলাম ভারতবর্ষের আলাদা আলাদা রাজ্যে আলাদা আলাদা মাপ।

পশ্চিমবঙ্গে এক বিঘে মানে ১,৩৩৩ বর্গমিটার। বাংলাদেশে ১,৩৩৭.৮ বর্গমিটার। দু’টোর গড় ১৩৩৫.৪ বর্গমিটার। সেটা ধরেই এগোই।

অর্থাৎ দু’বিঘে মানে ২,৬৭০.৮ বর্গমিটার। বর্গাকৃতি (চৌকো) হলে তার একেকটা দিক ৫১.৬৮ মিটার গোছের। এটা খুব একটা বড় নয়। সাধারণ সুইমিং পুলের একটা দিক পঞ্চাশ মিটার হয়। মনে রাখতে হবে, এর মধ্যে বাড়ি আমগাছ সব ছিল। প্রাচীরটা ছিল কিনা নিশ্চিত নই।

তবে উপেনদের অবস্থা এককালে এর থেকে ভাল ছিল। ঋণে বাদবাকি সব জমি খুইয়ে না বসলে কত জমি ছিল বলা শক্ত। এ ব্যাপারে ইতিহাস নীরবই থেকেছে।

কিন্তু এ লেখার মূল বিষয় উপেনের পারিবারিক ইতিহাস নয়। এ লেখা ঐ জমি নিয়ে।

প্রসঙ্গতঃ, উপেন লোকটা বিশেষ সুবিধের নয়। ফিরে এসে জমির সঙ্গে বাজে ব্লেমগেম খেলেছিল। মিথ্যে ডকুমেন্ট বানিয়ে জমি কেড়ে নেওয়ায় কষ্ট হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু তার আউটবার্স্ট জমির ওপর হওয়া অনুচিত।

পুরো ব্যাপারটা এইর’ম। জমি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর “লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে” বলেটলে উপেন বেরিয়ে পড়েছিল।

সে পড়েছিল বেশ করেছিল, কিন্তু পনেরো-ষোলো বছর পর ফিরে এসে খুব অস্বস্তিকর রকমের প্যাসিভ অ্যাগ্রেসিভ কথা বলতে শুরু করেছিল:
ধনীর আদরে গরব না ধরে! এতই হয়েছ ভিন্ন
কোনোখানে লেশ নাহি অবশেষ সেদিনের কোনো চিহ্ন!”

উপেন ঠিক কী আশা করেছিল কে জানে। হয়ত ভেবেছিল বাগানের মধ্যে দু’বিঘে জমি থাকবে, কিন্তু প্রচুর আদরযত্ন করা সত্ত্বেও তাতে ফলফুল কিস্যু ধরবে না।

প্রসঙ্গতঃ, সেই বাগানের আম নিতে উপেন আদৌ দ্বিধাবোধ করেনি। কোনও কারণে উপেনের ধারণা হয়েছিল যে বাগান হাতছাড়া হলেও গাছের আম নিজেরই থাকে, কাজেই প্রণামটনাম করে খাওয়ার প্ল্যান করছিল। ধরা পড়ে যাওয়ার পর অবশ্য উপেনের এই অধিকারবোধ চলে যায়। তখন আম ভিক্ষে চাওয়ার চেষ্টা করে।

তবে এসব সত্ত্বেও বলতে বাধ্য হচ্ছি, আম নেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার করা, মেরে খুন করার হুমকি দেওয়া ইত্যাদি একটু বাড়াবাড়ি।


*
 

এখানে আরেকটা ব্যাপার আছে। বাড়ি পৌঁছনোর সময়ই উপেন তৃষাতুর ছিল (গরমকালে রাস্তায় জল খায়নি কেন? গ্রামে স্তব্ধ অতল দিঘি কালোজল ছিল না?)। তারপর আম নিয়ে পুরো শুনানিটা হয় জলের ধারে। তখন উপেনের তেষ্টা হয়ত আরও বেড়ে গেছিল।

*

এ তো গেল উপেনের অস্বাভাবিক পোজেসিভনেসের কথা। এবার জমির কথায় আসি।

যাঁর বাগানের আকারজনিত ওসিডি নিয়ে এই কবিতা, উপেন তাঁকে চারবার “বাবু” আর দু’বার “রাজা” বলেছে (আলাদা আলাদাভাবে; “রাজাবাবু” বলেনি কখনও)। একবার “মহারাজ”ও বলেছে। “রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি” বাদ দিলাম। জমিদারকে রাজা বলাটা হয়ত স্বাভাবিক, কিন্তু উপেন লোকটা বড্ড ইনকন্সিস্টেন্ট। আমি এখানে “বাবু” বলছি।

আগেই বলছি, জমির মাপ আনুমানিক ৫০ মিটার x ৫০ মিটার, তবে সেটা বর্গাকার হলে তবেই।

কিন্তু বর্গাকার হওয়া কি সম্ভব?

কবিতার মূল বিষয় হল বাবুর বাগানের (বাবুবাগান নয়; সেটা ঢাকুরিয়ায়) আকৃতি। দৈর্ঘ্য আর প্রস্থ মিলছিল না। উপেনের জমি বর্গাকৃতি হলে কিন্তু ব্যাপারটা অদ্ভুত হত। যেমন ধরা যাক, এইটা।
এখানে দু’টোই বর্গাকার। কিন্তু বাবুর সমস্যার সঙ্গে (“প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা”) মিলছে না। আর কী হতে পারত? দেখা যাক।
এটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। বাবুর যা বাতিক, ঐ L-শেপড জমিটুকু হয়ত নিতেনই না। আর না নিলে উপেন হয়ত ঐটুকু জায়গায় থেকে যেতেই পারত।
এ এক অবাস্তব ব্যাপার। মাটি খুঁড়ে বেরোতে হত উপেনকে। এটা হলে এমনিই বেচে দিত, সপ্তপুরুষ অর আদারওয়াইজ।

যা দাঁড়াল, জমি বর্গাকৃতি ছিল না। তার মানে আয়তাকার। গোল নয় এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত, কারণ চৌকো বাগানের ভেতর গোল জমি, সেটা বেচা নিয়ে ঝামেলা – এসবের সম্ভাবনা খুব কম। একেবারে নেই বলব না, কিন্তু সে ছবি আঁকা আমার সাধ্যের বাইরে

ব্যাপারটা খুব সম্ভবতঃ নিচের ছবিটার মত ছিল।

আগেই বলেছি, মোট জমির মাপ ২,৬৭০.৮ বর্গমিটার। এবার তার প্রস্থ একটা ভদ্রস্থ কিছু ছিল নির্ঘাত। ফিতের মত ২,৬৭০ মিটার x ১ মিটার ছিল না বলেই মনে হয়। এক মিটার প্রস্থে বাড়ি বানানো অসম্ভব না হলেও হাঁটাচলা করতে গেলে উপেনকে দ্বিমাত্রিক হতে হত।

জমি ঠিক কতটা চওড়া ছিল বলা শক্ত। সুমনের কথা মাথায় রেখে দশফুট ধরি? দশফুট মানে তিন মিটার।

একটা প্রাচীরও ছিল, তবে সেটা বোধহয় বাবুর বাগানের প্রাচীর, জমির নয়। এই প্রাচীরটা একটু রহস্যময়: যে-সে ঢুকে যেকোনও গাছের নিচে বসে পড়তে পারত, কিন্তু ফল পড়লে কুড়োনোর অধিকার পেত না। 

আমসমেত গাছের ডাল প্রাচীরের বাইরে ঝুঁকে পড়তেই পারত। সেটা হলে কী হত কে জানে।

তিন মিটার প্রস্থ ধরলে দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮৯০ মিটার। মন্দ নয়।

কিন্তু এখানে একটা সমস্যা আছে। আমগাছ নেহাৎ রোগাপাতলা গাছ নয়। উইকিপিডিয়া বলছে ক্রাউন রেডিয়স (শাখাপ্রশাখা সব মিলিয়ে) ব্যাসার্ধ দশ মিটার। তার মানে পুরো ব্যাপারটা কুড়ি মিটার চওড়া। যদি ধরেও নিই ডালপালা সীমানার বাইরে ঝুলত, তাহলেও কমে কত হবে? পনেরো মিটার?

পনেরো মিটার হলে কিন্তু দৈর্ঘ্য ঝপ করে নেমে আসবে ১৭৮ মিটারে। আমার এক কিলোমিটার হাঁটতে মোটামুটি মিনিটদশেক লাগে, অতএব এটুকু হাঁটতে লাগবে পৌনে দু’মিনিট। জ্যৈষ্ঠমাসে অতি ভোরে উঠে তাড়াতাড়ি ছুটলে আরও অনেক কম লাগত উপেনের।

তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? জমি চওড়ায় একটা আমগাছের সমান, লম্বায় ১৭৮ মিটার।

আমরা একটা দিক একেবারে “এক আমগাছ” (খুব কমিয়ে ১৫ মিটার) ধরলে দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ১৭৮ মিটার। সেক্ষেত্রে উপেনের জমি বাদ দিলে বাবুর বাগানের মাপ হত ১৭৮ মিটার x ১৬৩ মিটার।

পনেরো মিটার না হয়ে কুড়ি মিটার হলে এই হিসেবটা বদলে যেত। অনেকটা এইর’ম দাঁড়াত।

এখানে অনেকগুলো হিসেব অ্যাপ্রক্সিমেট। যেমন ১৭৮x১৬৩-টা আসলে ১৭৮.০৫৩x১৬৩.০৫৩।


উপেনের জমি
বাবুর বাগান
(উপেনের জমি বাদ দিয়ে)
বাবুর বাগান
(উপেনের জমি সমেত)
দৈর্ঘ্য
প্রস্থ
মাপ
মাপ
(বিঘে)
দৈর্ঘ্য
প্রস্থ
মাপ
মাপ
(বিঘে)
দৈর্ঘ্য
প্রস্থ
মাপ
মাপ
(বিঘে)
১৭৮
১৫
২৬৭১
১৭৮
১৬৩
২৯০৩২
২২
১৭৮
১৭৮
৩১৭০৩
২৪
১৩৪
২০
২৬৭১
১৩৪
১১৪
১৫১৬২
১১
১৩৪
১৩৪
১৭৮৩৩
১৩
১০৭
২৫
২৬৭১
১০৭
৮২
৮৭৪২
১০৭
১০৭
১১৪১৩
৮৯
৩০
২৬৭১
৮৯
৫৯
৫২৫৫
৮৯
৮৯
৭৯২৬


আমার ব্যক্তিগত ধারণা প্রথমটাই, কারণ বাবুর জমি মনে হয় বেশ বড় ছিল বলেই মনে হয়। অবিশ্যি এইর’ম ভাবার কোনও কারণ নেই। হয়ত মাত্র চারবিঘে জমি নিয়েই উনি আরও দুবিঘে জুড়ে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সমান করতে চাইছিলেন।

*

এই ভিডিওটার সঙ্গে এই পোস্টটার কোনও সম্পর্ক নেই। এমনিই রাখলাম।


Followers