BANNER CREDITS: RITUPARNA CHATTERJEE
A woman with the potential to make it big. It is not that she cannot: she simply will not.
PHOTO CREDITS: ANIESHA BRAHMA
The closest anyone has come to being an adopted daughter.
Showing posts with label Alphabets. Show all posts
Showing posts with label Alphabets. Show all posts

Sunday, September 28, 2014

ষত্ব-বিধান

ণত্ব-বিধান নিয়ে নানান্‌ বাতেলা এইখানে।

***

অনেকদিন আগে যখন ণত্ব-বিধান নিয়ে লিখেছিলাম, খুব ইচ্ছে ছিল ষত্ব-বিধান নিয়ে লেখার, কিন্তু নানান্‌ কারণে হয়ে ওঠেনি। খানিকটা হয়ত দরকার পড়েনি বলেই। ণ্‌-ন্‌-এর ভুলটা যতটা কমন, শ্‌-ষ্‌-স্‌-এর ব্যাপারটা কোনও কারণে ঠিক অতটা নয়।

ষ্‌-এর গল্পটা বলি। ণ্‌-এর মতই এর উচ্চারণ হয় জিভ মূর্ধায় ঠেকিয়ে। মূর্ধা ব্যাপারটা বোঝা খুব সোজা — ট্‌ উচ্চারণ করার সময় জিভ যেখানে ঠেকে। এক্কেবারে জলবৎ তরলং, কিন্তু আমরা আদৌ ব্যাপারটা মেনে চলি না। উচ্চারণের সময় শ্‌ আর ষ্‌-এর পার্থক্য করি না।

প্রসঙ্গতঃ বলে রাখা ভাল, বাংলায় S-er উচ্চারণ নেই, সবকিছুই SH; বিদেশী শব্দে S থাকলে অবিশ্যি বলতে হয়, আর সেক্ষেত্রে লেখার সময় স্‌ লেখা বাধ্যতামূলক। যেখানে SH, সেখানে শ্‌ (বা কখনও স্‌, যেমন "সাহেব") ব্যবহার হয়।

বিদেশী শব্দে কখনও ষ্‌ ব্যবহার হয় না।

উদাহরণ -
সুট আর শু পরে শোফারের সিটে বসলে নিজেকে সুলতান মনে হয় না।

***

এবার ষ্‌-এর প্রসঙ্গে আসি। আজকে বাংলা ভাষা যেখানে পৌঁছেছে, ষ্‌-এর প্রয়োজনীয়তা প্রায় নেইই। সংস্কৃতে ষ্‌-এর ব্যবহার ছিল, আর তার চেহারাও ছিল তার মাসতুতো ভাই ণ্‌-এর মত।

ष আর ण-কে একইরকম দেখতে না?

কিন্তু বাংলায় ষ্‌-এর অবস্থা বড়ই করুণ। বোঝার ওপর শাকের আঁটির মত অপরেশনের দাগের মত ঐ মাঝের ইয়েটা রয়ে গেছে। একে তো লোকে মোদ্ধেন্ন ষ্‌ বলত, ঐ দাগের ফলে তার নাম হয়েছে পেটকাটা মোধেন্ন ষ্‌। আজ অবধি কাউকে শুনলাম না ল্যাজবিশিষ্ট হ বলতে, শুধু ষ-এর বেলাতেই যত ইয়ে।

[ষ্‌-এর দুঃখ যদি কেউ বুঝে থাকেন তবে তিনি শিব্রাম। প্রতিশোধের জ্বালায় তিনি "শুঁড়ওয়ালা বাবা" লেখেন। সে গল্প যে পড়েনি তার নরকবাস অনিবার্য।]

শুধু তাইই নয়, ক্‌ আর ষ্‌ জুড়ে যে ক্ষ্‌ হয়, তারও নাম কয়ে-মোদ্ধেন্ন-ষয়ে খিঁও।

***

যাক্‌গে, ষ্‌-এর কথায় ফিরি। একই শব্দে দুই ন অতটা বিরল নয়, কিন্তু তিনটে শ পাওয়া বেশ শক্ত। এই মুহূর্তে "সবিশেষ" ছাড়া কিস্যু মনে পড়ছে না (কামসূত্রে "সুশোষণ" জাতীয় কিছু আছে কিনা আমার জানা নেই)। সে যাক্‌গে, এবার ষত্ব-বিধানের প্রসঙ্গে আসি।

ষত্ব-বিধানের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম -
শ্‌ কখনও ষ্‌-এ পরিণত হয় না। শুধুমাত্র স্‌ থেকে ষ্‌ হয়। ণত্ব-বিধান যেমন ণ্‌-ন্‌-এর যুদ্ধ নিয়ে, ষত্ব-বিধান তেমনই ষ্‌ বনাম স্‌। শ্‌ এখানে ফালতু।

১) ঋ-এর পর এক্কেবারে চোখ-কান বুজে ষ্‌, যেমন ঋষি, বৃষ্টি। তালব্য শ্‌ নিয়ে এসব ঝামেলা নেই, তাই কৃশ, দৃশ্য।

উদাহরণ -
বৃষ্টিস্নাত কৃশ বৃষকে দেখে ঋষির ক্ষুধার উদ্রেক হল।

২) অ আ ছাড়া অন্যান্য স্বরবর্ণের পর যদি কোনও প্রত্যয়ের মধ্যে স্‌ থাকে, আর সেই প্রত্যয়ের মধ্যে ক্‌ খ্‌ গ্‌ ঘ্‌ য্‌ র্‌ ল্‌ ব্‌ থাকে তাহলে সেই স্‌ ষ্‌ হয়। যেমন ভবিষ্যৎ, প্রতীক্ষা, পরিষ্কার (কিন্তু পুরস্কার)। শ্‌-এর ক্ষেত্রে এসব নিয়ম খাটে না, যেমন বেশ্যা, বিশ্বামিত্র, ইত্যাদি।

উদাহরণ -
বিশ্বামিত্রের ক্ষুধার্ত প্রতীক্ষার পুরস্কার দিতে গিয়ে মেনকা মুমূর্ষু হয়ে পড়লেন।

৩) অতি, অভি, সু, অনু, নি, বি উপসর্গের পর ষ্‌ হয়, যেমন অতিষ্ঠ, অভিষেক, সুষুপ্তি, অনুষ্ঠান, নিষাদ, বিষাদ। কিন্তু শ্‌ এক্সেম্পটেড, যেমন অতিশয়, অভিশাপ, সুশীল।

উদাহরণ -
অভিষেক অতিশয় সুশীল ব্যক্তি, কিন্তু সে সুষুপ্তিতে নিমজ্জিত হলেই সুশ্রী নারীবৃন্দ তাকে অতিষ্ঠ করার চেষ্টা করে।

৪) নির্‌ বা দুর্‌ উপসর্গের পর ক্‌ খ্‌ প্‌ ফ্‌ থাকলে ষ্‌ হয়, যেমন দুষ্কর, নিষ্প্রাণ। না থাকলে স্‌, যেমন দুঃস্থ, নিঃস্ব। শ্‌-এর এসব ঝামেলা নেই, যেমন নিঃশেষ, দুঃশলা।

উদাহরণ -
জয়দ্রথের পকেট মারা দুষ্কর, তাই দুঃশলা তাঁর নেটব্যাঙ্কিংএর পাসওয়র্ড ক্র্যাক করে তাঁকে নিঃস্ব করে দিলেন।

৫) আবির্‌ (আবীর বা আবির নয়, শেষে হসন্ত আছে), চতুর্‌ (এখানেও হসন্ত, চাতুরির কোনও গল্প নেই) ইত্যাদির পর ক্‌ খ্‌ প্‌ ফ্‌ থাকলে ষ্‌ হয়, যেমন আবিষ্কার, চতুষ্কোণ।

উদাহরণ -
চতুষ্কোণ আবিষ্কার করে বৈজ্ঞানিক "ইউরেকা" বলতে চাইলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ তিনি গ্রীক জানতেন না।

৬) কিছু শব্দে এমনিই ষ্‌ হয়, কোনও কারণ ছাড়াই - যেমন বিষয়, ষোড়শ, আষাঢ়, পাষাণ, যুধিষ্ঠির।

উদাহরণ -
নিষাদষোড়শীর আষাঢ়ে গল্প শুনে যুধিষ্ঠির তার দিকে পাষাণ ছুঁড়ে মারলেন।

***

এ তো গেল ষ্‌-এর গল্প - কিন্তু স্‌-ই বা কম যায় কীসে? তারও নিজস্ব আইন আছে বৈকি!

১) সাৎ-প্রত্যয়ান্ত শব্দের স্‌ কখনওই ষ্‌ হয় না, যেমন অকস্মাৎ, ভূমিসাৎ।

উদাহরণ -
বাথটাব থেকে অকস্মাৎ লাফিয়ে উঠতে গিয়ে আর্কিমিডিস পা পিছলে ভূমিসাৎ হলেন।

২) আগে অঃ বা আঃ আর পরে ক্‌ খ্‌ প্‌ ফ্‌ থাকলে তার ঠিক পরের ষ্‌ স্‌-এ পরিণত হয়, যেমন পুরস্কার (কিন্তু পরিষ্কার), পরস্পর, ভাস্কর, অস্ফূট। সন্ধি না হলেও হয়, যেমন স্বতঃস্ফূর্ত। 

উদাহরণ -
ভাস্করাচার্য আর আর্যভট্ট স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরস্পরকে পেটাতে লাগলেন।

২ক) ২এর মতই, শুধু পরে ত্‌ থাকলেও স্‌ হতে পারে, যেমন মনস্তাপ বা শিরস্ত্রাণ। 

উদাহরণ -
ভাস্করাচার্য শিরস্ত্রাণ পরেননি বলে অনেক পরে আর্যভট্টের মনস্তাপ হল।

৩) আগেই বলেছি, বিদেশী শব্দে ষ্‌ হয় না, স্‌ বা শ্‌ হয়।

উদাহরণ -
সেল্‌স্‌ম্যানটা শেল্ডনসাহেবকে "শেষের কবিতা" বা সেঁকো বিষ কোনওটাই বেচতে না পেরে ষাঁড়ের মত চিৎকার করতে লাগল।

Monday, November 5, 2012

ণত্ব-বিধান

ষত্ব-বিধানের লেখা এইখানে।

***

আজ, ২০১২ খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বরের এই সকালে বসে ণ্‌-এর কথা ভেবে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। আরো হল, কারণ ণ্‌-কে নিয়ে কেউ খুব একটা চিন্তিত নয়; আজ যদি বাংলা ভাষা থেকে ণ্‌ সর্বৈবভাবে লুপ্ত হয়ে যায় (ঠিক যেমন ৯ বেচারার ক্ষেত্রে হয়েছে), সমস্ত ণ্‌-এর জায়গায় হঠাৎ ন্‌ ব্যবহার শুরু হয়, মনে হয় না তাতে কারুর বিশেষ হেলদোল হবে। ণ্‌ অনেকটা দুয়োরানীর মত - তার অস্তিত্ব সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল, কিন্তু তার ব্যবহারে কেউ খুব একটা ইচ্ছুক নয়।

একেবারে উচ্চারণ দিয়েই শুরু করি। অন্ততঃ নব্বই শতাংশ বাঙালির উচ্চারণে ণ্‌ হল "মোদ্ধেন্ন"; বাকিরা, যারা একটু বিশুদ্ধবাদী, তাঁরা বলেন "মূর্ধন্য"; সমস্যা হল, দুটোই ভুল।

"মূর্ধন্য" মানে হল "মূর্ধা সম্বন্ধীয়"; বর্ণের ক্ষেত্রে মূর্ধন্য মানে হল "যা উচ্চারণ করতে মূর্ধা ব্যবহার করতে হয়" - যেমন ট্‌ ঠ্‌ ড্‌ ঢ্‌। মূর্ধা কথার আসল মানে মাথা হলেও এক্ষেত্রে "মুখের ছাদ", অর্থাৎ ট্‌ উচ্চারণ করার সময় জিভ যেখানটায় ঠেকে।

মূর্ধায় ঠেকিয়ে যে বর্ণ উচ্চারণ করতে হয় তাকে বলে মূর্ধন্য, যেমন ট্‌ ঠ্‌ ড্‌ ঢ্‌ ণ্‌। এর মানে হল, মূর্ধন্য আসলে বিশেষণ; ণ্‌-এর আসল নাম "মূর্ধন্য ণ" (হ্যাঁ, পুরো কথাটাই, শুধু মূর্ধন্য নয়); মজার ব্যাপার, আমাদের উচ্চারণে ণ্‌ আর ন্‌-এ কোনো পার্থক্য না থাকলেও হিন্দিতে ণ্‌ উচ্চারণ করার সময় মূর্ধায় ঠেকানো হয়, যার ফলে ণ-এর উচ্চারণ হয় অনেকটা ড়ঁ-এর মত।

বাংলায় মূর্ধন্য ণ-এর আকৃতি দেবনাগরীর থেকে অনেক বলিষ্ঠ। আমাদের ণ মোটেই ওদের মত নুইয়ে-পড়া হাড়জিরজিরে নির্জীব ক্লীব নয়, রীতিমত শাঁসে-জলে চেহারা তার, তার উন্নতশির অস্তিত্বে বাংলা ভাষার সম্পদ আজ বহুগুণে বর্ধিত। চেহারা দেখলেই বোধগম্য হবে -
ণ বনাম ण
দেবনাগরীর ण একটা অদ্ভুত ন্যাতানো, মাথা-নোয়ানো, কেলিয়ে-পড়া ক্লীববিশেষ; যেখানে আমাদের ণ্‌ অনেক বলিষ্ঠ, উন্নতশির, ঋজু মেরুদণ্ডের অস্তিত্ব। তাও আমরা মূর্ধন্য ণ্ এবং তার ব্যবহার সম্পর্কে রীতিমত উদাসীন।

উচ্চারণগত পার্থক্য (যা আমরা আদৌ মানি না) ছাড়াও ন্এর মাত্রা আছে, যা ণ্এর নেই। ণ্‌ হামেশাই ট্‌ ঠ্‌ ড্‌ এর সঙ্গে যুক্ত হয়, ন্‌ও। ণ্‌-যুক্ত যুক্তাক্ষরের চেহারা ন্‌যুক্ত যুক্তাক্ষরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা -
ণ্‌ যোগ করলে হয় ণ্ট ণ্ঠ ণ্ড, সবকটাই মাত্রাবিহীন
ন্‌ যোগ করলে হয় ন্ট ন্ঠ ন্ড, সবই মাত্রাযুক্ত

ণ্‌ দিয়ে সাধারণতঃ শব্দ শুরু হয় না। ণিচ্‌ নামে একটা প্রত্যয় আছে অবিশ্যি, যা ব্যবহার হলে সেই ক্রিয়াপদকে ণিজন্ত ক্রিয়া বলে। কিন্তু এছাড়া ণ দিয়ে শুরু কোনো শব্দ অভিধানে নেই।

তাহলে ণ্‌ কখন কোথায় ব্যবহার হয়? কেন হয়? তা নিয়ে রীতিমত নিয়মটিয়ম আছে, যার নাম ণত্ব-বিধান। ণত্ব-বিধান অবশ্যই আরেকটা ণ্‌ দিয়ে শুরু শব্দ, কিন্তু এর মধ্যে একটা জালি আছে। এটা গায়ের জোরে ণ্‌ দিয়ে শুরু শব্দ।

ণত্ব-বিধান বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম ঘ্যাম জিনিস। মন দিয়ে একবার শিখে নিলে বাংলা বানান ভুলের সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে।

১) ঋ র্‌ ষ্‌ থাকলে তার অব্যবহিত পরে অবশ্যই ণ হবে, ন নয়। যেমন ঋণ, স্বর্ণ, উষ্ণ। বিদেশী শব্দে অবশ্য এর প্রয়োজন নেই, যেমন হর্ন, কর্ন, পর্নো।

উদাহরণ -
ট্রাক-ড্রাইভারেরা হর্ন বাজিয়ে তাদের নতুন সভাপতিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল।
পর্ণকুটিরে বসে সজোরে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও দেখলে প্রতিবেশীরা আপত্তি জানাবেই।

২) ঋ র্‌ ষ্‌ এর পর (যতগুলো ইচ্ছে) স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ব্‌, হ্‌, ং থাকলে ণ হবে। যেমন কারণ, শ্রবণ, শ্রমণ, ম্রিয়মাণ। আবার, বিদেশী শব্দে এর প্রয়োজন নেই, যেমন কার্বন, হ্যারিকেন।

উদাহরণ -
কানের খুব কাছে বৃংহণ শুনলে অনেকেরই হাতে হ্যারিকেন হয়ে যায়।
কার্বন ডাইঅক্সাইড শোঁকার নেশা হলে মরণ আসন্ন।

৩) ট্‌-বর্গের বর্ণের অব্যবহিত আগে (একই বর্গের বর্ণ বলেই মনে হয় একটা আঁতাত আছে) ণ্‌ বসবে। যেমন ঘণ্ট, লুণ্ঠন, ষণ্ড। বিদেশী শব্দে এর প্রয়োজন নেই, যেমন মাউন্ট, রাউন্ড, ব্লাইন্ড।

উদাহরণ -
মাউন্ট এভারেস্ট ঘণ্ট রান্নার পক্ষে খুব সুবিধের জায়গা নয়।
এক পাউন্ড ষণ্ডমাংস খেলে কারুর জাত যায় না।

৪) প্র, পরা, পরি, নির্‌ উপসর্গের পর ণ হয়। যেমন প্রণব, পরায়ণ, পরিণাম, নির্ণয়। আবার নিপাতনে সিদ্ধ উদাহরণও আছে, যেখানে ন-ই থেকে যায়, যেমন প্রনষ্ট, পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ।

উদাহরণ -
ঊর্ধতন কর্মচারীর স্ত্রীর দিকে নির্নিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে পরিণাম সুবিধের হয় না।
পরিনির্বাণ আয়ত্ত করলে সবাই ঢিপ্‌ ঢিপ্‌ করে প্রণাম করে।

৫) প্র পরা পরি নির্ উপসর্গ বাদে সমাসবদ্ধ পদের দ্বিতীয় শব্দের ন্‌ থেকে যায়। যেমন সর্বনাম, পবননন্দন, দুর্নীতি। এখানেও নিপাতনে সিদ্ধ উদাহরণ আছে, যেখানে ণ্‌ হয়ে যায়, যেমন রামায়ণ, শূর্পণখা, অগ্রণী। অবিশ্যি আজকাল শূর্পনখা বানান দিব্যি চলে।

উদাহরণ -
মুখপোড়া পবননন্দন ও নাককাটা শূর্পণখার বিয়ে হলে রাজযোটক হত।
দুর্নীতির জগতে অগ্রণী হয়ে ওঠার মধ্যে একটা ঘ্যাম ব্যাপার আছে।

৬) ত্‌ থ্‌ দ্‌ ধ্‌ এর আগে ন্‌ ব্যবহার হয়। যেমন শান্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন।

উদাহরণ -
অনর্গল ক্রন্দনরত বালকদের স্থূলকায় গ্রন্থ দ্বারা প্রহার করলে তারা শান্ত হয়।
অক্টোপাস-শুণ্ডের বন্ধন অত্যন্ত মন্দ।

৭) কিছু শব্দে এমনিই ণ হয়। যেমন অণু, আপণ (আপন অন্য শব্দ), কঙ্কণ, কণা, কণিকা, কল্যাণ, কোণ, গণ, গণ্য, গৌণ, ঘূণ, চিক্কণ, তূণ, নিপুণ, পণ, পাণি, পুণ্য, বণিক, বাণ, বাণিজ্য, বাণী, বিপণি, বীণা, বেণী, বেণু, ফণা, ফণী, লবণ, লাবণ্য, শণ, শোণ, শোণিত, স্থাণু।

উদাহরণ -
বেণুতে ঘূণ ধরলে জঘন্য শব্দ বেরোয়।
তূণের ভেতর রাখলে বাণের লাবণ্য বাড়ে।

৮) শব্দের শেষে (হসন্ত-সমেত) বসলে ন্‌ হয়। যেমন শ্রীমান্‌।

উদাহরণ -
শ্রীমান্‌ ফরদীন খান অভিনয় করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

Saturday, July 24, 2010

৯

না, আমার এই লেখার বিষয় "নয়" নয়। এটা সেই অক্ষর, যার ঋ আর এ-র মাঝখানে আসার কথা, যার "হাসিখুশি"র দ্বিতীয় পাতার দ্বিতীয় ফ্রেমে ডিগবাজি খাওয়ার কথা। এই সেই ৯, যার উচ্চারণ "লি", যার ব্যবহার আর নেই। আমার মেয়ে বর্ণপরিচয়ের যে সংস্করণ পড়ে, তাতে ঋ-এর পর সরাসরি এ, আর সেখানে * দিয়ে নিচে লেখা যে এখানে কখনও ৯ নামক অক্ষরের অস্তিত্ব ছিল।

তার মানে ৯ এখন আর ব্যবহার হয় না (তার মানে, ৯খতে, ৯পি, কা৯মা, বা৯শ, শিব৯ঙ্গ, ক্৯ব৯ঙ্গ, আর্দা৯, মজন্তা৯, ৯য়েণ্ডার পেজ, অরুণ জেট৯, মা৯নী ভট্টাচার্য, ব্রুস ৯, ব্রেট ৯, ৯জ্জত পাঁপড় জাতীয় বানান অশুদ্ধ)। কিন্তু ৯ নাকি এককালে ব্যবহার হত। হত হয়ত। আমার বাবা-মাকেও তাইই বলা হয়েছিল, যে ৯ এককালে ব্যবহার হত। আমার দাদামশাইও তাই শিখেছিলেন: আগে ব্যবহার হত। প্রশ্ন হল, কবে ব্যবহার হত? এই যে সবাই বলে, অনেক আগে ৯ ব্যবহার হত, এই অনেক আগে-টা কত আগে?

বঙ্কিমচন্দ্র ব্যবহার করেননি ৯, অন্ততঃ আমার বাড়িতে যে দু'খণ্ডের বঙ্কিমসমগ্র আছে তাতে কোথাও ৯ নেই। মেঘনাদবধ কাব্য বা মাইকেলের অন্যান্য টুকটাক লেখাতেও নেই। হুতোম প্যাঁচার নক্‌শা পড়ার চেষ্টা করলাম, বেশিদূর এগোতে পারলাম না, কিন্তু যতদূর পড়লাম তাতে ৯-কে পেলাম না (যদিও বেশ অভিনব জিনিস পেলাম - শব্দের দ্বিত্ব হলেই সেখানে ২ ব্যবহার হত, যেমন "সকাল সকাল"-এর বদলে "সকাল ২" ইত্যাদি)। জেদ চেপে গেল, আগাগোড়া কৃত্তিবাসী রামায়ণ পড়লাম, কোথায় সেই ৯? বৈষ্ণবপদাবলীতেও দেখলাম, বিদ্যাপতি আর নানারকম দাসের কেউই ৯ ব্যবহার করেননি। চর্যাপদ পড়ার সাহস দেখাইনি অবশ্য।

ইস্কুলে থাকতে সংস্কৃত পড়েছিলাম। সেখানে তো আরও ঘ্যাম - ঋ আর এ-র মাঝখানে তিন-তিনটে অক্ষর: দীর্ঘ ঋ (লেখার নিয়ম ঋ-এ ঋ-ফলা), ৯ আর, অবিশ্বাস্য হলেও, দীর্ঘ ৯ (লেখার নিয়ম ৯-এর কোলে ছোট আরেকটা ৯)। নানারকম স্বরসন্ধির সূত্রের ফলে দীর্ঘ ঋ আর দীর্ঘ ৯ জন্ম নেয়, আর ৯-এর ব্যবহার আছে।

কিন্তু এ তো গেল সংস্কৃত। বাংলায়? আমি যে বর্ণপরিচয় পড়েছিলাম তার ভূমিকায় বিদ্যাসাগর দিব্যি লিখেছিলেন "বহুকালাবধি বর্ণমালা ষোল স্বর ও চৌত্রিশ ব্যঞ্জন এই পঞ্চাশ অক্ষরে পরিগণিত ছিল। কিন্তু বাঙ্গালা ভাষায় দীর্ঘ ঋ-কার ও দীর্ঘ ৯-কারের প্রয়োজন নাই। এই নিমিত্ত ঐ দুই বর্ণ পরিত্যক্ত হইয়াছে।"

উনি ঘ্যাম লোক, অতএব নিশ্চয়ই ঠিকই লিখেছিলেন। তার মানে দীর্ঘ ঋ আর দীর্ঘ ৯ বাংলায় ব্যবহার হত না। কিন্তু ৯? ৯-এর ব্যাপারে তো উনি সর্বৈব নীরব - তার মানে কি তখন বাংলায় ৯ ব্যবহার হত? কে করত? কি সেই বই? কে লিখেছিলেন / ৯খেছিলেন? কারা পড়ত? কে দেবে এই অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তর?

***

পুনশ্চ ১: বাংলা হরফ টাইপ করা নিয়ে ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম, দেখলাম বাংলা ইউনিকোডে দিব্যি জ্বল্‌জ্বল্‌ করছে ৯, এবং ৯ (সংখ্যা) হিসেবে নয়, রীতিমত আলাদা ইউনিকোড ক্যারেক্টার কোড 098C নিয়ে (৯/নয়-এর ক্যারেক্টার কোড 09EF)। শুধু তাই নয়, ৯-কারও আছে; আর তার সঙ্গে আছে একে একে দীর্ঘ ঋ, দীর্ঘ ৯, দীর্ঘ ঋ-কার আর, হ্যাঁ, সত্যিই, অবিশ্বাস্য হলেও, দীর্ঘ ৯-কার।

সর্বনাশ! কি হবে এবার?

***

পুনশ্চ ২: এরা যতদিন আছে, ৯-এর মৃত্যু নেই।

***

পুনশ্চ ৩: এই তিনজনের ছবি এক লেখায় ব্যবহার করব ভেবেছিলাম কখনও?

***

পুনশ্চ ৪: মনে পড়ল, উপক্রমণিকায় পড়েছিলাম তব + ৯কারঃ = তবল্‌কারঃ (অ + ৯ = অল্‌)। তবল্‌কার মানে কি, বিন্দুবিসর্গও মনে নেই।

Saturday, May 8, 2010

The zzzzz factor

I've always been curious about alphabets. When I first came across reviews of the movie Veer, my first reaction was oh, just another Salman Khan cinema that went down the drain, and I had overlooked the casting section. Then I noticed the stills, and saw a cute, plump, somewhat attractive girl.

Who is this? My curiosity took over, and searching led to reveal that it's some was Zarine Khan. Veer was her debut, and she was called Yashodhara in the movie. Wow, not only does her name start with a Z, but she also has a V and a Y in her life, I thought! And then, while visiting her Wikipedia page, I found the following excerpt: "She received her entry into acting when she was visiting the set of Yuvraaj at Subhash Ghai's film school Whistling Woods."

Ooooh, two Ws as well, and another Y!

It was then that my memories raced back, down the by-lanes of Bollywood history. I thought of leading ladies from the past, not just anyone, but women whose names started with the last letter of the alphabet.

I shall not waste my (or anyone else's) time on writing about the queen of them all, Zeenat Aman. I grew up amidst telecasts of Bollywood films from the 1960s, the 1970s and the 1980s, and Zeenat was unmissable. There's no point going on about how I had drooled over this woman in my heydays; about how men have wasted ink and other fluids on her for years; I wouldn't be listing her filmography either.  However, I suppose I should mention a few Zeenat facts:
* Zeenat was born to a Hindu mother and a Muslim father, that too in Germany
* Zeenat won Miss Asia-Pacific in 1970
* Zeenat put her lips to satyam shivam sundaram, clapped and danced to khaike paan Banaraswala and was the woh repeatedly mentioned throughout the eternal jhingalala hoom in the same year.

Zarina Wahab shall always remain the one who went on a frantic search for aabodana all over Mumbai with Amol Palekar in Gharaonda. She co-starred with Amol in Chitchor and the mysterious Agar... If as well, and I suppose she matched Amol Palekar step-by-step in maintaining the next-door image. Zarina also acted against a pre-Ramayan Arun Govil in Saawan ko Aane Do, and surprised all and sundry pleasantly by making a Bollywood comeback in My Name is Khan.

Not many Indian actresses start their career with a Bond production, and when someone does, you cannot ignore her. Zaheera did (she had used the name Zara for the movie), in On Her Majesty's Secret Service. She followed this up with Gambler a year later (where Dev Anand claimed that her bangles were nothing but his heart), and then big-banner productions like Dharmatma and less-hyped ones like Taxi Taxie (starring Amol Palekar) and the much underrated Naukri (a Hrishikesh Mukherjee masterpiece starring Raj Kapoor and Rajesh Khanna).

I shall always remember Zahida as the girl who sat at the back of the carriage when Sanjeev Kumar put his lips to oh re taal mile in Anokhi Raat, a black-and-white movie as late as 1966. She played a role in two high-profile Dev Anand movies as well, Gambler (scroll down to the end of this article for some trivia) and a movie as good as Prem Pujari, no less.  After three fairly decent movies to start off, she mysteriously faded into oblivion with not much more to boast of in her career.

When I first saw Henna nineteen years back I thought Zeba Bakhtiar would have a long career. She didn't. She acted in three movies (Mohabbat ki Arzoo, Stuntman and Jai Vikraanta) that I didn't watch, but had listened to their songs quite intently. I had heard vaguely somewhere that she had married Adnan Sami and had got separated. She, like many others of her generation, isn't a leading actress any more, has stooped to directing serials for the television and resides somewhere in Pakistan.

*** *** ***

Correction to an earlier blog entry:
In my previous blog post I had mentioned that Zaheera and Zahida in Gambler provide the only instance of two actresses starting with a Z in the same movie. I was wrong: Zeenat Aman and Zarina Wahab had acted alongside (who is surprised?) Dev Anand in Ishq Ishq Ishq. So much for overconfidence.

PS: Six pretty pictures in one post - I'd be crestfallen if this doesn't get tagged as ghyam.

Wednesday, April 7, 2010

Avid

A few years back someone had taught me that there's no f in Bengali: only ph. The difference is not as subtle as it sounds like. If you can't get it, leave a comment: I shall explain.

Let's not divert. For the very same reason there's no v in Bengali either: only bh. Hence Abhishek should always be written as Abhishek or Abhisek (there's no mapping of ষ in English, hence the ambiguity). However, there have been occasions, well, I shudder to write this, I've seen people write my name using a V: Avishek.

BLASPHEMY!

How, oh how, can one be such a callous, crude, ruthless vandal? Have these people no sense of what goes through the hearts of the millions of Abhisheks around the world as they tumble across such macabre, gruesome insanity? My blood boils, as it's supposed to, when I realise that the penal code doesn't mention any punishment whatsoever for such atrocities. Hence they continue to happen...

Had I had my way, I'd have inflicted serious torture upon these Avi-monsters, made a video recording and created a .avi file out of it.

Grrrrrr.

Followers