BANNER CREDITS: RITUPARNA CHATTERJEE
A woman with the potential to make it big. It is not that she cannot: she simply will not.
PHOTO CREDITS: ANIESHA BRAHMA
The closest anyone has come to being an adopted daughter.
Showing posts with label Television. Show all posts
Showing posts with label Television. Show all posts

Tuesday, October 13, 2020

পুরোনো বাংলা বিজ্ঞাপন

পুরোনো বাংলা বিজ্ঞাপনগুলোর কথা মনে পড়ছিল সেদিন। টিভির, রেডিওর, কিছু আশির দশকের, কিছু নব্বইয়ের। জানিনা এখনও এগুলো হয় কিনা। অনেককাল দেখিনা।

জ্যাবোর‍্যান্ডি এখনও আছে কিনা জানি না, তবে সেটা বলার আগে বলা দরকার মহাকাব্য বা পুরাণ নিয়ে বাংলায় অনেক লেখা আছে, আর তার অনেকগুলোই হাসির। "সুবর্ণগোলক" থেকে "পঞ্চপ্রিয়া পাঞ্চালী" থেকে "বক-বধ পালা" থেকে "লক্ষ্মণের শক্তিশেল" মায় "মহায়ন"...

এগুলোর বৈশিষ্ট্য হল, এখানে কোনও চরিত্রকেই সিরিয়সলি নেওয়া হয়নি। বিজ্ঞাপনই বা বাদ যায় কেন?

"রাবণরাজার টাক ছিল
পরচুলাতে ঢাকছিল,
জ্যাবোর‍্যান্ডি মেখে মাথায়
চুল এলিয়ে হাসছিল।"

*

আরেকটা ব্যাপার ছিল রথী-মহারথীদের সমাগম। এই ধরুন, শিব্রাম। আজ সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে শিব্রাম থাকলে আর কোনও বাঙালিকে কলকে পেতে হত না।

আর বিজ্ঞাপন – শিব্রাম ট্যাগলাইন লিখবেন না তো কে লিখবেন?

"ঘৃত দুই প্রকার, শ্রী ও বিশ্রী"।

আর ছিলেন বিশপ লেফ্রয় রোডের উনি।

"হাঁটা মানেই বাটা।"

*

জিঙ্গলের প্রসঙ্গে আসি। গানের ব্যাপারে আমি নিতান্তই সা-অক্ষর গোমাংস, তার ওপর বেসুরো বেতালা। গানের কথাও প্রায়ই ভুল শুনি। গলা শুনেও যে খুব চিনতে পারি তা নয়।

ভুলচুক হলে কমেন্টে শুধরে দেবেন, আমিও বদলে দেব।

সবথেকে বিখ্যাতটা দিয়েই শুরু করি।

"শুষ্কতার রুক্ষতার অবসান যদি চান,
বারো মাস সারা অঙ্গে মেখে নিন
সুরভিত অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রীম বোরোলীন।
ত্বক যদি কেটে যায় ফেটে যায়,
(মনে নেই কী) সারা গায়ে মেখে নিন,
সুরভিত অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রীম বোরোলীন।"

এত বছর পরেও কেউ "সুরভিত অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রীম" বললে রিফ্লেক্সে "বোরোলীন" বেরিয়ে যায়। অনেক পরে এটার আরেকটা জিঙ্গল বেরোয়, যেটা আরও বেশি বিখ্যাত হয়।

"জীবনের ওঠাপড়া রোজকার কাটাছড়াতে
যায় হারিয়ে কতকিছু সময়ের সাথে সাথে
কিছু হাসি কিছু কথা যায় থেকে যায় চিরদিন
সুরভিত অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রীম বোরোলীন।"

*

এটা রেডিওর, যদিও একটা আবছা ভিডিও মনে পড়ছে। হয়ত দু'জায়গাতেই হত। কথাগুলো স্পষ্ট মনে আছে, কলেজে অবধি এটা অনেক গাইতাম (কেন গাইতাম কে জানে)।

"মাথার ঘন চুল যখন
মরুভূমি হয়ে যায়
ওয়েসিস নিয়ে আসে মরূদ্যান
মেঘের ছায়ায় ছায়ায়।
ওয়েসিস খুসকি তাড়ায়
ওয়েসিস উকুনও মারে
ওয়েসিস মাথাকে ঠাণ্ডা রাখে
ওয়েসিস ডবল অ্যাকশন হেয়র ভাইটালাইজর, ওয়েসিস।"

শেষ লাইনটা আমি আবার "ফার্টিলাইজার" শুনতাম।

*

এটা টিভির বিজ্ঞাপন। যদ্দূর মনে পড়ছে এটায় কয়েকটা স্টিল ফটোর স্লাইড থাকত, যাতে ট্রেডার্স অ্যাসেম্বলিকে নানান্‌ অ্যাঙ্গল থেকে দেখাত।

"মোরা সেই দোকানে চলি, যার নাম ট্রেডার্স অ্যাসেম্বলি
গড়িয়াহাটার মোড়ের শোভা ট্রেডার্স অ্যাসেম্বলি।
শাড়ির বাহার দেখতে হলে, হাল ফ্যাশনে চলতে হলে,
একটি নাম সবার কাছে বলি,
সেই নামটি হল ট্রেডার্স অ্যাসেম্বলি
গড়িয়াহাটার মোড়ের শোভা ট্রেডার্স অ্যাসেম্বলি।"

*

এটাতেও স্টিল ফটোর স্লাইড। এটা জিঙ্গল নয়। আবৃত্তিও নয়। পাঠ বলা যেতে পারে যদি একই শব্দ একই টোনে তিনবার বলাকে পাঠ ধরা হয়।

"তন্তুজ। তন্তুজ। তন্তুজ।
বাংলার তাঁতের শাড়ি।"

একটা তন্তুশ্রীও ছিল, সেটার বিজ্ঞাপনটা মনে পড়ছে না।

*

উডওয়র্ডস গ্রাইপ ওয়টরের বিজ্ঞাপনটা একটু অদ্ভুত।

ধরা যাক X আর Y দু'জন মানুষ। Xএর বয়স Yএর থেকে বেশি।

একটি শিশু কাঁদে, তাতে Y ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন, আর Xএর সঙ্গে দেখা হয়। এবার একটা সিকোয়েন্স শুরু হয়।

X: কী হল?
Y: খুকু কাঁদছিল।
X: বল উডওয়র্ডস দিতে। তুমি যখন ছোট ছিলে, তোমাকেও খাইয়েছি।

পরের ধাপে X হয়ে যান Y, আর নতুন X দেখা দেন। এই ব্যাপারটা চারবার হয়।

উল্লেখ্য, এটা হিন্দিতেও হত। বাংলা বিজ্ঞাপনটা ডাব করে নয়, আলাদা কাস্ট নিয়ে হয়েছিল।

*

এটা যদ্দূর মনে পড়ছে বৃদ্ধাশ্রমে মেয়ে বাবার সঙ্গে (বা নাতনি ঠাকুরদা/দাদামশাইয়ের সঙ্গে) দেখা করতে এসেছিল।

"টুকরো টুকরো যত স্মৃতি
আঁকা হয়ে যায় এ জীবনে
কিছু সব ছাড়িয়ে, কিছু যায় হারিয়ে
বারেবারে ফিরে আসে মনে
মনে
মনে
খাবারের স্বাদ (ভুলে গেছি)
কুক্‌মী ডাটা গুঁড়ো মসলা।"

*

কুক্‌মীর আরেকটা বিজ্ঞাপন হত, সেটা বোধহয় রেডিওর। খুব দ্রুত গাওয়া হত:
"অদ্বিতীয়, সবার প্রিয়
স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়
কুক্‌মী।"

*

দিগেন বর্মা ভারতে ট্রিভাগোর ডেভেলপমেন্ট হেড, বড়সড় ব্যাপার। ট্রিভাগোর বিজ্ঞাপনে উনিই বলেন "হোটেল? ট্রিভাগো।"

এ ব্যাপারে দিগেন বর্মা কিন্তু পথিকৃৎ নন। তিরিশ বছরেরও বেশি আগে ডক্টর এ সরকার নিজের আর্নিকা প্লাস ট্রায়োফারের বিজ্ঞাপনে নিজেই আবির্ভূত হন।

দুঃখের বিষয়, নামজাদা ডাক্তার হলেও উনি খুব বড় মাপের অভিনেতা ছিলেন না, তাই বিজ্ঞাপনগুলো দেখলেই হাসি পেত।

চুল পেকেছে, অভিনয় আছে আগের মতই, কিন্তু ডাক্তারবাবু এখনও লড়ে যাচ্ছেন। নতুন একটা বিজ্ঞাপন দেখেছি।

*

গেঞ্জি-জাঙ্গিয়া-মোজার অনেক বিজ্ঞাপন হত। আমার ধারণা এই সেক্টরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হত, নয়ত এত বিজ্ঞাপন হত কেন? সবকটা মনে নেই হয়ত, তবে কয়েকটা তো আছেই।

"আদরমাখানো নাম ভারি মিষ্টি, হোসিয়ারি জগতের বিস্ময় রাজু।
রাজু করেছে আলোড়ন সৃষ্টি, রাআআআজু রাজু রাজু।
গেঞ্জি, জাঙিয়া, আর মোজা, সঠিক দামে রাজু স্বস্তি আনে,
রাজু বিশ্বস্ত সবাই জানে, রাআআআআজু, রাজু রাজু।
রাআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআজু।"

*

সবথেকে বিরক্তিকর ছিল এটা, বিশেষতঃ প্রথম দু'টো লাইন। প্রতিটা লাইন অসম্ভব টেনে-টেনে গাওয়া।

"শোওই-শঅবে প্রো-থোওওওম দ্যা-খাআআ পে-লাআআম
কোওই-শোওর কা-লেএএ বোও-ন্ধু হো-লাআআম।"

এরপর হঠাৎই টেম্পো বেড়ে যেত।
"যৌবনে প্রথম পরশ পেলাম।"

আবার আস্তে।
সে যে দিলীঈঈপ, আমাআআর দিলীঈঈপ।"

*

ডিডি গেঞ্জির বিজ্ঞাপনে এক ভদ্রলোকের চোখ বাঁধা থাকত। যদ্দূর মনে পড়ছে তিনি ডার্ট ছুঁড়তেন।

"ডিডি।
ডিডি।
ডিডি।
চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়।"

২০১১ বিধানসভা নির্বাচনের আশেপাশে এই স্লোগানটা বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।

*

এটা আসলে একটা কথোপকথন। চারজন পুরুষ ছিলেন, তাঁদের একজন আবার জিৎ। আর ছিলেন এক মহিলা। প্রথম চারটে লাইন ছিল

- নবাব কিনলে আরাম ফ্রী।
- শুনছি বলছে, দিচ্ছে কি?
- নবাব কিনলে আরাম ফ্রী।
- এবার আরাম পাব ফ্রী।

এবার এঁদের একজন মুখে অসম্ভব তৃপ্তির ছাপ নিয়ে গাইতেন
"আমিও ফ্রীঈঈঈ..."

এরপর এই বিজ্ঞাপনের সবথেকে রহস্যময় ব্যাপার। এক মহিলা এসে খুব শেষজনের কাঁধে চাপড় মেরে সন্দিগ্ধ মুখ করে "তুমিও ফ্রী?" জিজ্ঞেস করেই সম্পূর্ণ অকারণে ভয়ানক নাচতে শুরু করে দিতেন।



*

নবাবের কিন্তু আরেকটা বিজ্ঞাপন ছিল, সম্ভবতঃ রেডিওর।

"হোসিয়ারি জগতে নেই জবাব
গেঞ্জি-জাঙিয়ার নাম নবাব
নবাব গেঞ্জি, নবাব জাঙিয়া,
নবাব নবাব নবাব।"

*

বাপি গেঞ্জি কিন্তু এখনও পাওয়া যায়। ভিআইপি বা পি-থ্রী বা বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর মুখে ছাই দিয়ে কলকাতা রীতিমত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বাপির বিজ্ঞাপনটা বোধহয় অঞ্জন দত্ত গাইতেন, আর বড় বাপি ছিলেন তরুণকুমার।

"ছোট্ট বাপি, চনমনে।
মেজো বাপি, র‍্যাপ।
বড়বাপিরাশভারিজেনারেশনগ্যাপ (এটা এভাবেই বলা হত)।
খেলাধূলা, স্কুলে যাওয়া, অফিসের বস
বই পড়া, গান শোনা, আরাম অবসর।"

*

পরের বিজ্ঞাপনটার ব্যাপারে বলার আগে মুনমুন সেন সম্পর্কে একটু বলা দরকার। আমার ছোটবেলায় মুনমুন চারটে আইকনিক জিনিসে অভিনয় করেন।

প্রথমটা তপন সিন্‌হার "বৈদুর্য রহস্য": যতবার দেখি, মন ভাল হয়ে যায়।

দ্বিতীয় "চৌধুরী ফার্মাসিউটিকলস", যাতে সুব্রত মুখোপাধ্যায় (হ্যাঁ, তিনিই) আর মুনমুনের সাঁতারের দৃশ্য বাংলায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এগুলো যে কীভাবে বিশ্বাস করাই আজকালকার বাচ্চাদের...

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রথমদু'টো ভুলতে বসলেও তৃতীয়টা ভুলিনি। ভুলবও না। বাঙালি যতদিন, এটাও ততদিন।

- ম্যাডাম, সামনের সপ্তাহেই প্যারিস পৌঁছে যাব। আপনার কস্টিউম (?) ওখান থেকেই কিনে নেব।
- ভালো কথা। কসকোর হওয়া চাই।
- দেশে-বিদেশে এত ব্র্যান্ড থাকতে কস্‌কো কেন?
- কারণ (এটা পুরো পীক মুনমুন) কস্‌কোর ছোঁয়া হল পালকের স্পর্শ।

এই পীক মুনমুন ব্যাপারটা যিনি  শোনেন নি এবং দেখেন নি ("বা" নয়, "এবং"), তাঁকে বোঝানো আমার সাধ্যের বাইরে।

পুনশ্চ:
ওপরে একটা "?" আছে। যদ্দূর মনে পড়ছে ওটা কস্টিউম, তবে অন্য কিছুও হতে পারে। বিজ্ঞাপনের চার্ম অবিশ্যি কমছে না তাতে।

*

দু'টো গ্লিসারিন সাবানের বিজ্ঞাপন মনে পড়ছে। রুক্ষ, ত্বক ইত্যাদির জন্য প্রায়ই একটার লিরিক্স অন্যটার ঘাড়ে চাপায় মানুষ। আমি চাপালাম কিনা নিশ্চিত নই।

(এটা আবৃত্তি)
"এল শীতের রুক্ষ শুষ্ক দিন।
প্রিয় ত্বকের যত্ন নিতে চাই চেস্‌মী গ্লিসেরিন।"

(এটা গান)
"দিনের শেষে রুক্ষ বেশে
ত্বকের লাবণ্য আনে মৌলি,
সে যে মৌলি গ্লিসারিন।"

*

এটা বোধহয় রেডিওর। আমি নিশ্চিত যে এর আগে-পরে আরও লাইন ছিল, সেগুলো ভুলে গেছি। কিন্তু এটা আজীবন চেষ্টা করলেও ভুলতে পারব না। অনেক বিজ্ঞাপনে অনেক ট্যাগলাইন শুনেছি, কিন্তু এর জুড়ি আজও খুঁজে পাইনি।

"ভাঙা সংসার ছাড়া আর প্রায় সবই জুড়ে দেবে দিগ্বিজয়ী ডেনড্রাইট।"

*

একেজি এখনও পাওয়া যায় কিনা জানি না। আমাদের বাড়িতে আসত না, কিন্তু বোধহয় এই বিজ্ঞাপনটা দেখে বায়না করতাম।

"একেজির তৈরি চাটনি আর আচার
একেজির জ্যাম জেলি তার জুড়ী মেলা ভার (ছন্দ কাটছে, তার মানে কিছু একটা ভুলে গেছি)
রান্নাটা জমে যায় সাথে দিলে ভিনিগার
একেজির স্কোয়াশের স্বাদটা জবর
সিরাপ বা সসটা তো আছে দিনভর
স্বাস্থ্য শক্তি একেজির গুণ
স্বাদের জগতে রাজা একেজি কিনুন।"

*

এটা টিভি রেডিও দু'টোতেই হত। এটা মনে আছে শুধু অম্লোজিন নামটার জন্য।

"অম্বল, গ্যাস, বুকজ্বালা?
(সম্পূর্ণ অকারণে ভারি গলায়)
চঅঅশমা মার্কা অম্লোজিন চূর্ণ ব্যবহার করুন।"

*

এটা রেডিওর, এখনও কানে লেগে আছে। দ্বিতীয় লাইনে "চুলকানি" থাকত বলে আমরা এটাকে একটা বয়সে অশ্লীল ভাবতাম।

"স্যালিকল স্যালিকল স্যালিকল মলম।
দাদ হাজা চুলকানিতে দেয় আরাম, স্যালিকল মলম।"

*

রেডিওয় অনেক বিজ্ঞাপন হত, যার বেশিরভাগই তেমন দাগ কাটত না। এটার কথা আলাদা। আমি আমার প্রজন্মের কাউকে চিনি না যে এটা পুরোটা কখনও বলার চেষ্টা করেনি।

এ জিনিস যে শোনেনি তাকে বলে বা লিখে বোঝানো অসম্ভব।

"হ্যাঁ, এই তো!
সময় হয়ে এল!
হ্যাঁ, এই সময়টাই তো!
হাতুড়ি-মার্কা ফিনাইলের
শনিবারের
বারবেলা!

(চ্যাঁঅ্যাঁঅ্যাঁঅ্যাঁঅ্যাঁঅ্যাঁঅ্যাঁঅ্যাঁ করে দরজা খোলার শব্দ)
শো-নি-বা-রে-এ-এ-এ-এ-র
বা-আ-আ-আ-র-বে-লা-আ-আ।"

*

এটাও রেডিওর (যা বুঝছি আমার ভয়ানক রেডিওর নেশা ছিল)। এটা আশির দশকের মাঝামাঝি হত।

- কী গো নাতনি, আমায় বিয়ে করবে নাকি?
- ইশ্‌, তুমি বুড়ো!
- অনেক গয়না দেবো।
- ইশ্‌, তোমার দাঁত পড়ে গেছে!
- ভারত বিস্কুট দেব।
- আমি রাআজি, আমি রাআজি। দাও, ভারত বিস্কুট দাও!

দাদু বলতে মনে পড়ল, রেডিওয় "দাদু খায়, নাতি খায় রবিন্সনস বার্লি" গোছের একটা বিজ্ঞাপন হত, কিন্তু তার আর কিছু মনে নেই।

*

এটা সাধারণ বিজ্ঞাপন হলেও ব্রেনোলিয়ার নামটা দাগ কেটেছিল। কেউ কিছু ভুলে গেলে "ব্রেনোলিয়া খা"-টা ছাত্রমহলে খুব চলত।

- বলতে পারো, কোন্‌ ভেষজ স্মৃতিশক্তি ও স্বাস্থ্য সতেজ রাখে?
- ব্রাহ্মী!

(ভয়েসওভার)
"আসল ব্রাহ্মীশাকের রস থেকে তৈরি ব্রেনোলিয়া।"

*

এটা একটু লম্বা বিজ্ঞাপন। স্ট্যান্ডে একটা মিনিবাস দাঁড়িয়ে। দু'টো ছেলে সামনের সীটে (দরজার ঠিক পরে যেটা) বসতে গিয়ে দেখত একটা সিগারেটের প্যাকেট আর একটা দেশলাইয়ের বাক্স রাখা।

ওরা বসার খানিক পর এক ভদ্রলোক উঠে সীটটা দাবি করতেন। ছেলেদু'টো বিনা বাক্যব্যয়ে উঠে ঠিক পেছনের সীটে বসত - তবে তার আগে ওঁকে জিজ্ঞেস করত সীটের নিচে রাখা সিগারেট দেশলাই ওঁর কিনা।

- এটা আপনার?
- হ্যাঁ।
- আর এটা?
- এটাও আমার। এগুলোই আমার চিহ্ন ছিল।

তারপর ভদ্রলোক ধোঁয়া ছাড়তে শুরু করতেন, আর (খুব স্বাভাবিকভাবেই) সেই ধোঁয়া উড়ে ছেলেদু'টোর দিকে যেত।

খানিকক্ষণ ইতস্ততঃ করে একটা ছেলে বলত, "এই যে দাদা, শুনছেন? সীটটা আপনার, সিগারেটটা আপনার, দেশলাইটা আপনার, তাহলে ধোঁয়াটাও নিশ্চয়ই আপনার? দয়া করে ধোঁয়াটা আপনার কাছেই রাখুন না!"

*

এটা বোধহয় ডাবড (কারণ গানটা মহিলাকণ্ঠে হলেও কারুর লিপে নয়)। আমি হিন্দিটা শুনেছি, যদ্দূর মনে পড়ছে কাস্টিং একই ছিল।

"ঘুমোও আমার সোনা, আর কেঁদ না, আর দুষ্টুমিও না।"

(ভয়েসওভার)
"দ্বিতীয় শিশুর কথা এখন থাক। কোহিনূরের ওপর ভরসা রাখা যাক।"

*

এটা কারুর মনে আছে কিনা জানি না (আমারও যে খুব স্পষ্টভাবে মনে আছে তা নয়, তাও লিখছি)।

এক ভদ্রলোকের পেছনে অনেক বাচ্চা "বাআবাআ, বাআবাআ" করতে করতে ধেয়ে আসত। ভদ্রলোক খুব বিপর্যস্ত হয়ে পড়তেন।

এবার আরেক ব্যক্তি এসে ভ্যাসেকটমি না করানোর জন্য প্রথমজনকে রীতিমত ভর্ৎসনা করতেন।

অনেকক্ষণ শোনার পর প্রথমজন জিজ্ঞেস করতেন, "আপনার ক'টি সন্তান?"

দ্বিতীয়জন বলতেন, "দু'টি!"

সঙ্গে সঙ্গে টিং টিং করে দু'বার আওয়াজ হত, আর দ্বিতীয় ভদ্রলোকের পাশে আর কাঁখে দু'টো বাচ্চা গজিয়ে যেত। উনি হাঁটতে হাঁটতে চলে যেতেন।

আর প্রথমজন "এবার আমি কী করব?" বলে হাল ছেড়ে দিয়ে বসে পড়তেন।

*

আরামবাগ হ্যাচারিজ ১৯৭৩এর হলেও এই বিজ্ঞাপনটা বোধহয় নব্বইয়ের দশকের। গলাটা অঞ্জন দত্তর।

"তন্দুরি মোগলাই, কাবাব চিকেন ফ্রাই,
বিলিতি বা খাঁটি দিশি রান্না।
দেখলেই জিভে জল, নো মোর কোলেস্টরল!
আরামবাগের তাজা, মুরগির মজা!"

*

এটা একসময় আমার খুব প্রিয় ছিল, কিন্তু এখন আর পুরো মনে নেই।

"পাখির ডাকে ভোরের অ্যালার্ম (?)
(ভুলে গেছি)
ঘুমভাঙা চোখে আড়মোড়া ভেঙে শুরু হয়ে গেল দিন
আমার সকাল, তোমার সকাল, সবার সকাল শুধু জুড়ে আছে
ব্রিট্যানিয়া থিন।"

*

আমি জীবনে কখনও গরুর খাবার কিনিনি, কিন্তু এটা কোনও কারণে দিব্যি মনে আছে। রেডিওর।

- বালতিটা যে দুধে ভরে গেল ঘোষ মশাই!
- ভরবে না? কপিলা পশু আহার কি এমনি এমনি খাওয়াই?

*

হরলিক্সের একটা খুব প্রিয় বিজ্ঞাপন দিয়ে শেষ করি। এটার কয়েকটা লাইন ভুলে গেছি, মোদ্দা কথা, অনেককে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে কেন তাঁরা হরলিক্স খান। তিনটে লাইন মনে আছে।

শুরুতেই মুনমুন সেন (ওপরে চারটের কথা বলেছিলাম না?এটা চতুর্থটা):
"আমি কেন হরলিক্স খাই? দাআরুউণ লাগে!"

ঠিক কস্‌কোর মত আইকনিক নয়, কিন্তু ঐভাবে "দাআরুউণ" বলার ক্ষমতা সারা পৃথিবীতে কারুর ছিল না; হবেও না।

শেষের আগেরজন মধ্যবয়সী ব্যক্তি। বেশ বিরক্তির সঙ্গে বলতেন, "দিনরাত লোডশেডিং, ট্রামেবাসে বাদুড়ঝোলা! আরে বাবা, শরীরটাকে তো রাখতে হবে!"

আর একদম শেষে একটা বাচ্চা, একদম দুগ্ধপোষ্য শিশু, বলবে "আমি তো এমনি এমনিই খাই।"

এই তিনটে লাইনই বেশ মুখে মুখে ঘুরত। বিশেষতঃ শেষটা।

*

উপসংহার:
মুনমুন একজনই।

Saturday, October 2, 2010

Three absolutely unrelated articles

The actress
A couple of years back I was flipping through the channels randomly. This was Sun or Surya or Jaya or some other South Indian channel, the logo in bright orange, complete with imposing moustaches and multi-directional bibhuti smears.

A certain woman caught my eye. I had no idea what she was called, and had no way of knowing either. She was not as cute as Jyothika or as you-know-what as Namitha, but there was something about her. I saw a couple of people on Orkut, later, with her picture on their profiles.

But the mystery remained: what was her name?

And then, while browsing the net randomly in pursuit of upcoming Rajnikanth movies, I came across her: she was called Mamta Mohandas, and like most performers from the south of Cauvery, she has acted in films of all four languages.

For the sake of information, she's also a playback singer.

The sleuth
As we know, it is a mistake to think that one can solve any major problem with potatoes. Somewhat strangely, the same doesn't hold for carrots. There was a man who actually used to do that on a regular note.

Back in 1985 there was a television serial on Doordarshan called Karamchand. Karamchand was played by the inimitable Pankaj Kapur, and had a female assistant (Kitty, played by Sushmita Mukherjee) to boot. The stories were concise, well-knit, Pankaj Kapur was brilliant, and we were all hooked. It still remains the bestest mystery serial ever launched in the history of mankind. Okay, maybe not that much, but it was awesome.

Sony TV tried a relaunch in 2007, with Pankaj Kapur as Karamchand, and Sucheta Khanna as Kitty. It didn't go very well. I suppose it had a lot to do with the fact that there was no conspiring mother-in-law, no designer clothes and interior decoration, and the fact that it wasn't called Kkaramchand.
The cricketer
I was very happy, over a decade ago, when I first heard that Devang Gandhi had been selected to play for India. He made two fifties in his first two tests; and opened with Ganguly in his debut ODI, thereby making it (possibly) the only instance of two cricketers from Bengal opening batting at international level. They put up a 100-run partnership (he also had two hundred-run partnerships with Ramesh in first two tests).

Then he went to Australia. He simply stood with his bat like a fishing line, and the ball seemed to fly past him in all possible directions. He and his bat never seemed to care about the ball went, and was dropped after making 4 and 0 at Brisbane.

He played two more ODIs on that tour, and we never saw him again. He ended with an ODI career tally of 49 runs, which is still the lowest for anyone who had one hundred partnership in his career.

My favourite Devang memory, though, is how he got out in his first innings down under. McGrath bounced, he ducked, his bat held in mid-air; he looked quizzingly towards cover or point; the ball took his glove and went to fine leg.

And when he came back home, he said that he thought he had practised enough for the trip: after all, he had practised against the local seam bowlers (I suppose he meant those with a run-up exceeding ten steps) at Deshapriya Park. How could that go wrong against McGrath? It's supposed to be the same, after all.

Tuesday, September 21, 2010

আবার যখের ধন

শচীন তেণ্ডুলকর তখনও স্কুলে; রাজীব গান্ধী তখনও বেঁচে; শাহরুখ খান তখনও অচেনা; পূজাবার্ষিকী "দেশ" তখনও বড়রা বাড়ি থেকে বেরোলে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তে হত; সুমন যে ঠিক কোথায়, কোনো ধারণাই ছিল না; পাঁচ পয়সার ব্যবহার ছিল; আর কলেজ একটা অদ্ভুত স্বপ্নের, অথচ নিষিদ্ধ জায়গা ছিল।

১৯৮০র দশক। কলকাতা দূরদর্শনের শ্রেষ্ঠ দশক। ১৩ পার্বণকলকাতাঅভিনন্দন ভগীরথগোয়েন্দা ভগবানদাসযদি এমন হত। বিবাহ-অভিযান (যেটা কোনও এক রহস্যময় কারণে শেষ হয়নি, আর সেই অসমাপ্ত জিনিসটাই বারবার দেখানো হত, বছরের পর বছর) আরও নানারকম। ভাল-খারাপ মিলিয়ে নানারকম। তখন অবশ্য সবই ভাল লাগত। এমনকি সাপ্তাহিকীও (ভাবা যায়, একটা ১৫-২০ মিনিটের অনুষ্ঠান, যেখানে শুধুমাত্র সেই সপ্তাহের নানারকম অনুষ্ঠানের তালিকা বলা হয়, সেটাও আমরা দেখতাম, আর রীতিমত আগ্রহভরে)।

যাইহোক্‌, এই সময়েই আসে আবার যখের ধন; সম্ভবতঃ ইতিহাসের সবথেকে অভিনব সিরিয়াল। ছোটবেলায় সাংঘাতিক নেশা ছিল হেমেন্দ্রকুমারের, কাজেই অনিবার্যভাবেই বেশ আশা নিয়ে দেখা শুরু করেছিলাম। নানারকম অভিজ্ঞতা হল দেখতে দেখতে, তার কয়েকটা মনে আছে, আর স্মৃতিভ্রংশ না হলে সারাজীবনেও ভুলবনা:
  • শুরুর গান (title song): আমার ধারণা, একটা গা-ছমছমে পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। একটা আদিম আরণ্যক পরিবেশে ম্যাণ্ডোলিন আর মাদল-জাতীয় বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে আদিবাসী গান, আমার ধারণা বেশ রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি আনতে চেয়েছিলেন পরিচালক আর সুরকার। যেটা দাঁড়াল, ক্লাস ফাঁকা থাকলে কেউ একটা গাইত, আর আমরা বাকি সবাই হাসতাম।
  • দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অদ্ভুত অভিনয়: কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেই অদ্ভুতভাবে "বিমলবাবু ভাই" আর "মানিকবাবু ভাই" খুব জনপ্রিয় হয়েছিল; আমার বেশ অসহ্য লাগত, কিন্তু আমার চেনা অনেকেই এটায় প্রচুর আনন্দ পেত, আর আলোচনা করত দুর্দান্ত অভিনয় নিয়ে।
  • গাটুলা সর্দার (কে অভিনয় করেছিলেন - জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়?): সম্পূর্ণ অকারণে অদ্ভুত থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি করতেন গলার আওয়াজে। "বাবুমশায়রা, ঐ দেখা যায় কাবাগো-পাহাড়ের চূড়া" তো ঠিক আছে, কিন্তু "বাবুমশায়রা, ঐ দেখা যায় আপনাদের হোটেল" জাতীয় সংলাপে ঐ ভৌতিক অনুভূতি বোধহয় অপ্রয়োজনীয়। স্পষ্ট মনে আছে, বন্ধুরা হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ এ্জজন থেমে গিয়ে বলে উঠতাম "বাবুমশায়রা, ঐ দেখা যায় গড়িয়াহাটের মোড়"; এছাড়া ছিল হঠাৎ করে ভদ্রলোকের কারণে-অকারণে বলে ওঠা "এবার শুনুন সিংহদমন গাটুলা সর্দারের সিংহগর্জন" বলে একটা আপাত-ভয়াবহ (আসলে হাস্যকর) চিৎকার।
  • আফ্রিকার জঙ্গলের নরখাদক আদিবাসীরা: গোটাতিনেক লোক ছিল, বড়জোর চারজন। তাদেরকেই মুখে রংটং মাখিয়ে দৌড় করানো হত নানান্‌ দিক থেকে নানান্‌ দিকে, আর ক্যামেরার দিক বদলে বদলে ছবি তোলা হত। তিনজনকে সত্তরজন দেখানোর চেষ্টা করা হত, কিন্তু সেই বয়সেই আমরা এই অদ্ভুত গোঁজামিল বুঝে ফেলতাম।
  • বাঘা: বিমল-কুমার বহুবার বাঘাকে ডাকাডাকি করত, আর বাঘার গলার আওয়াজ শোনা যেত বারবার। ব্যাপারটা একইসঙ্গে অস্বস্তিকর আর সন্দেহজনক ছিল, কারণ বেশ কয়েকটা পর্ব অবধিও বাঘাকে দেখা যায়নি। তারপর একটা পর্বে দেখা গেল রামহরিকে, হাতে চেন, "চল, বাঘা, আয়" করতে; বেশ উত্তেজিত হলাম, এইবার নিশ্চয়ই বাঘাকে দেখা যাবে। কিন্তু সেই চেনের অন্য প্রান্তে কলার, আর সেই কলার গলায় নিয়ে স্ক্রীন আলোকিত করে থাকা বাঘাকে দেখা গেল না। গলার আওয়াজ শোনা গেল অবশ্য, যথারীতি।
তো সেই আর কি। এত সত্ত্বেও গিলতাম, বুভুক্ষুর মত, শুশুনিয়া পাহাড়-জাতীয় কোথাও আফ্রিকার জঙ্গলে অ্যাডভেঞ্চার। কি খুশি ছিলাম তাই নিয়েই! আর আজ, ১০০টা চ্যানেল সত্ত্বেও ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কিছুতেই আর শান্ত মনে কিছু দেখে উঠতে পারিনা।

Thursday, August 5, 2010

Double standards

Prasar Bharati and its censor board have always baffled me. Throughout my childhood they had made me watch one single channel, my summer vacation afternoons meandering into monotonous drones on the increase of jute plantation in Orissa or equivalent in the past financial year by some bespectacled professor on some programme that had received UGC grants, and whenever the Friday night movie was shown on air, the most awaited scenes were found to be mercilessly severed, thereby making the viewing pointless.

Now, not only have they allowed MTV and FTV and whatever-alphabet-TV, but they've also been broadcasting international cricket matches that have umpires with names like Rod Tucker, never putting a ban on channels showing his name on an electronic display or instructing them to beep when his name is being uttered on air (a tough ask, considering that it's live).

Hypocrites.

Sunday, April 25, 2010

Memories of spiders and camels

Memories of my childhood invariably involve All India Radio and Doordarshan. Even now, as I listen to the 6 AM Vande Maataram or the trademark Doordarshan jingle as the undulated orange logo smoothens into a proper shape I get goosebumps.

However, this article involves to two of the most popular jingles from my childhood. The first goes back to a 12 o'clock Sunday morning cartoon of Spiderman, which was my most awaited show of the week. This was way, way before the more popular feature Hollywood film series of Spiderman came into existence. At that age, Spiderman was sensational, since he was the only superhero we could watch on TV, and also because he was the only known superhero to me (once again, at that age) whose undergarments remained underneath his trousers.

I simply loved the song, but could never decipher what most of the words were. As I grew up and found the mp3 on internet, I listened to it very carefully and noted down the lyrics. Then I realised what a moron I was, since the lyrics were available on the internet already. The more interesting aspect, though, was that no one, I repeat, no one of my age, who used to sing the song with as much gutso as I did, knows the lyrics by heart.

I suppose it's my duty to provide the lyrics here for the sake of everyone. If at least one person breaks into a smile while reading this and/or hums the tune subconsciously, I'd know it was worth the effort:

Spiderman, Spiderman, does whatever a spider can.
Spins a web, any size, catches theives just like flies.
Look out, here comes the Spiderman.

Is he strong? Listen bud, he's got radioactive blood.
Can he swing from a thread? Take a look overhead.
Hey there, there goes the Spider-man.

In the chill of the night, at the scene of a crime,
Like a stream of light, he arrives just in time.

Spiderman, Spiderman, friendly neighbuorhood Spiderman
Wealth and fame, he's ignored, action is his reward
To him.
Life is a great big bang-up, wherever there's a hang-up,
You'll find the Spiderman!

***

The other song, though, is a Bangla commercial jingle. This one goes back to the 1980s as well, was very popular during the 1990s, but faded away in the new millennium. It was a riot in my college days, and I clearly remember myself shouting at the top of my supremely-deprived-of-musical-sense-of-the-minimum-order voice in the metro stations, porticos and empty classrooms. It went like this:

মাথার ঘন চুল যখন মরুভূমি হয়ে যায়,
Oasis নিয়ে আসে মরূদ্যান মেঘের ছায়ায় ছায়ায়।
Oasis খুসকি তাড়ায়, Oasis উকুনও মারে
Oasis মাথাকে ঠাণ্ডা রাখে,
Oasis double-action hair vitaliser, Oasis!

This roughly translates to:
When the dense locks on your head do not exist any more,
Oasis justifies its name in shadowy clouds galore.
Oasis removes dandruff and gets rid of lice,
Oasis keeps your head as cool as ice,
Oasis double-action hair vitaliser, Oasis!

And invariably, without thinking anything, as if in an innertia, an obvious ting-tong is uttered, an interlude All India Radio always used between commercials.

PS: Can anyone provide me with a snap of an Oasis Hair Oil container or box? I vividly remember that the logo resembled the outline of a camel.

Followers