BANNER CREDITS: RITUPARNA CHATTERJEE
A woman with the potential to make it big. It is not that she cannot: she simply will not.
PHOTO CREDITS: ANIESHA BRAHMA
The closest anyone has come to being an adopted daughter.
Showing posts with label Cricket. Show all posts
Showing posts with label Cricket. Show all posts

Thursday, December 26, 2019

বক্সিং ডের রূপকথা

গল্পটা ১৯৫৩র বক্সিং ডের।

ডিক ব্রিটেন্ডেন লিখেছিলেন, “নিউজিল্যান্ডের প্রত্যেক সন্তান যেন মায়ের কাছে দেশের এ বীরগাথা শুনে বড় হয়।”

সেযুগের তো বটেই, ব্রিটেন্ডেন সম্ভবতঃ নিউজিল্যান্ডের সর্বকালীন সেরা ক্রিকেটলেখক।

অথচ য়োহ্যানেসবার্গে নিউজিল্যান্ড হেরেছিল ১৩২ রানে।

কী এমন ঘটেছিল সেদিন এলিস পার্কে?

*

যে সাতটা দেশ তখন টেস্ট ক্রিকেট খেলত, তাদের মধ্যে নিউজিল্যান্ড ছিল সবথেকে দুর্বল। দু’দশকের বেশি সময় ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেললে কী হবে, তখনও অবধি একটাও টেস্ট জেতেনি তারা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দলের হাল ধরেন ওয়ল্টর হ্যাডলী। তখন চাকা খানিকটা ঘুরতে শুরু করে। তারপর বার্ট সাটক্লিফ, মার্ভ ওয়লেসের হাত ঘুরে দায়িত্ব আসে জিওফ রাবোনের হাতে।

খুব বড় মাপের ক্রিকেটার ছিলেন না রাবোন, কিন্তু তাঁর কথা একটু না বললেই নয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে র‍্যাফে নাম লিখিয়েছিলেন এই রাবোন। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে শুধু নিজে বাঁচেননি, নিজের গোটা দলকে বাঁচিয়েছিলেন, তাও একাধিকবার।

১৯৪৪এ, বিশ্বযুদ্ধের একদম শেষ পর্যায়ে রাবোনের বোমারু বিমানে আগুন লেগে যাওয়া সত্ত্বেও বেঁচে যান তিনি। প্যারাশুট নিয়ে নামেন ফ্রান্সের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। সেখানে এক ফরাসী পরিবারের আশ্রয়ে বেঁচে যান।

আর এই সাহস, আত্মবিশ্বাস, স্নায়ুর ওপর নিয়ন্ত্রণ, সমস্ত সংক্রামিত হয়েছিল তাঁর দলের মধ্যে।

ষাটের দশকে বিশ্বের অন্যতম ক্রিকেটশক্তি হয়ে ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকা। এ গল্প তার দশ বছরেরও বেশি আগের, কিন্তু তাদের উত্থানের সূচনা এই সময়েই।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ধীরে ধীরে, সযত্নে গড়ে তুলছিলেন জ্যাক চীথম। গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ ড্র করে নিউজিল্যান্ডে জিতেছিল তারা। নিজের দেশে স্বভাবতঃই তাদের দাপট অনেক বেশি হওয়ার কথা।

আর হলও তাই। ডারবানে শতরান করলেন রয় ম্যাকলীন, জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ করলেন ৮৪, আর ম্যাচে ন’উইকেট নিলেন হিউ টেফীল্ড। রাবোনের লড়াকু ব্যাটিং সত্ত্বেও ইনিংসে হারল নিউজিল্যান্ড।

য়োহ্যানেসবার্গ টেস্টের ব্যাপারে লেখার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের ব্যাপারে একটু বলা উচিত। নতুন বলে বিপজ্জনক ছিলেন ডেভিড আয়রনসাইড; ঘণ্টার পর ঘণ্টা একনাগাড়ে বল করেও ক্লান্ত হতেন না অ্যান্টন মারে; আর টেফীল্ড ছিলেন সম্ভবতঃ দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে সেরা স্পিনার।

ডারবানে এঁদের সঙ্গে যোগ দিলেন নীল অ্যাডকক, সম্ভবতঃ সে’যুগের দ্রুততম বোলার। দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে প্রথম বিশ্বমানের ফাস্ট বোলারও তিনিই। বয়স মাত্র বাইশ, আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, গতি কমানোর প্রশ্নই নেই। তার ওপর বিপজ্জনক বাউন্স।

আর এলিস পার্কের পিচও তো তেমন! সবুজ ঘাস, বল শুধু লাফায় তাই নয়, পিচে পড়ার পর আসে অসম্ভব গতিতে।

এই পিচেই প্রথম দিন আট উইকেটে ২৫৯ করল দক্ষিণ আফ্রিকা। তার মধ্যে ৯৩ করলেন রাসেল এন্ডীন, আর ক্লাইভ ফান রাইনেভেল্ড করলেন ৬৫। টনি ম্যাকগিবন শেষবেলায় পরপর দু’উইকেট না পেলে আরেকটু বেশি হত হয়ত।

*

ওয়েলিংটন থেকে অকল্যান্ডে যাওয়ার পথে যখন টাঙ্গিওয়াই পেরোল ট্রেনটা, রাত তখন দশটা পেরিয়ে গেছে। সামনে এবার ওয়াঙ্গাহু নদীর ব্রিজ।

দুর্ভাগ্যবশতঃ, সেদিনই যে এই ব্রিজের একটা খিলান ভেঙে পড়েছিল, তা ট্রেনের কর্মচারী বা দু’শো চুরাশি জন যাত্রীর কেউই জানতেন না।

চেষ্টা একটা হয়েছিল বৈকি। ব্রিজের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন জনৈক সিরিল এলিস। ট্রেন আসছে দেখে টর্চ জ্বেলে সতর্ক করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। এমার্জেন্সি ব্রেক চাপেন ড্রাইভার চার্লস পার্কার। “স্যান্ডিং” করে গতি আরও কমিয়ে দেন ফায়রম্যান লান্স রেডম্যান।

কিছু মানুষ বাঁচলেন এর ফলে। কিন্তু এঞ্জিন, টেন্ডার, আর দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঁচটা কামরা সমেত শেষ অবধি ওয়াঙ্গাহুতে আছড়ে পড়ল ট্রেন।

টাঙ্গিওয়াইয়ে রাত তখন দশটা একুশ। য়োহ্যানেসবার্গে দুপুর বারোটা একুশ।

নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে এতবড় ট্রেন দুর্ঘটনা আর কখনও হয়নি। মোট একশো একান্নজন মারা যান। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন বব ব্লেয়রের বাগ্‌দত্তা নেরিসা লাভ।

দুর্ঘটনার সময় এলিস পার্কে ফীল্ডিং করছিলেন একুশ বছরের ব্লেয়র। বেশ ভাল বলও করেন সেদিন। আর ফিরেই পান খবরটা।

*

পরের দিন বড়দিন। খেলার বিরতি। কিন্তু উৎসবের লেশমাত্র ছিল না নিউজিল্যান্ড শিবিরে। সবার মন তখন টাঙ্গিওয়াইয়ের দিকে। রেডিও, খবরের কাগজ, যে যেভাবে হোক যতটা সম্ভব জানার চেষ্টা করে চলেছে তখন।

তারপরের দিন খানিকটা সামলে উঠে মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন ক্রিকেটাররা। দলের সঙ্গে গেলেন না শুধু ব্লেয়র। হোটেলের ঘরে তাঁর সঙ্গী বলতে তখন শুধু রেডিও আর ম্যানেজার জন কার। তিনি যে সেদিন আসবেন না, তা মাইকে শুনতে পেল এলিস পার্কের সবাই।

২৭১ রানে শেষ হল দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।

*

নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সাটক্লিফ। অনেক বছর পর তিনি নির্দ্বিধায় জানান যে এলিস পার্কের এই টেস্টের মত এত দ্রুতগতির পিচ তিনি প্রায় দেখেননি বললেই চলে।

এলিস পার্কের পিচে মিডিয়ম পেসারের বাউন্সারই আসে বেশ জোরে, আর এ তো অ্যাডকক!

তবে এদিন বাউন্সার দেওয়ার চেষ্টাও তেমন করেননি সাড়ে ছ’ফুটের অ্যাডকক। নিজের উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে লেংথ থেকেই বল বাউন্স করাতে সক্ষম হলেন। শুরুতেই চোট পেলেন রাবোন, তারপর আয়রনসাইডের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন।

এবার অ্যাডককের পালা। ব্যাটটা কোনওমতে খানিকটা তুলতে পারলেন মারে চ্যাপ্‌ল্‌। বল তাঁর গ্লাভ ছুঁয়ে প্রথমে লাগল বুকে, তারপর উইকেটে।

ম্যাট পূরের সঙ্গে এবার যোগ দিতে এলেন স্বয়ং সাটক্লিফ। অ্যাডককের দু’টো বল খেলে দিলেন তিনি।

তৃতীয় বল বাউন্সার। স্বভাবতঃই হুক করতে গেলেন সাটক্লিফ।

সাটক্লিফের কানের পাশ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখে স্ট্রেচার হাতে দৌড়ে এল ফার্স্ট-এডের দল, তাঁদের পুরোভাগে সদ্য আউট হওয়া রাবোন। ততক্ষণে সাটক্লিফকে ঘিরে ধরেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফীল্ডাররা।

কোনওমতে উঠে দাঁড়ালেন সাটক্লিফ। হেঁটেই বেরোলেন মাঠ থেকে। যাওয়ার আগে চীথমের সঙ্গে হাত মেলাতেও ভুললেন না।

প্যাভিলিয়নে ফেরামাত্রই কিন্তু তাঁকে নিয়ে ছুটতে হল হাসপাতালে। এই চোটের মানসিক ধাক্কা জীবনের শেষ অধ্যায়েও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি সাটক্লিফ।

*

এদিকে অ্যাডককের আক্রমণে জর্জরিত হয়েও পঁচিশ মিনিট মাটি কামড়ে পড়ে রইলেন জন রীড। তিন রানের মাথায় সেই অ্যাডককের বলেই ফিরলেন তিনি।

এরপর লরি মিলারের পালা। কোনও রান করার আগেই অ্যাডককের বল আছড়ে পড়ল তাঁর বুকে। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল কাশি, আর কাশির সঙ্গে রক্ত। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে নিয়েও ছুটতে হল হাসপাতালে।

অ্যাডককের বল বুকে লেগে উইকেটে লাগায় আউট হলেন পূর, অনেকটা চ্যাপ্‌লেরই মত। নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন মাত্র ৩৫। দলের এগারোজনের চারজন প্যাভিলিয়নে, দু’জন হাসপাতালে, একজন হোটেলে। তখন দেড়শো রানে ফলোঅনের যুগ, অতএব দরকার আরও ৮৬।

খানিকটা লড়লেন জন বেক আর ফ্র্যাঙ্ক মূনি। তারপর অ্যাডককের বলে চোট পেলেন বেক, বল লাগল কুঁচকির ঠিক পাশে। এযাত্রা বেঁচে গেলেও আঘাতের জেরে উলটে গেল বেকের “বক্স”। ছুটে এলেন ম্যাকগ্লিউ, বেকের ব্যাটের হাতল দিয়ে কোনওমতে ঠুকে ঠুকে মেরামত করলেন।

নতুন বলটা কোনওমতে খেলে দিলেন বেক আর মূনি। কিন্তু তাতে হবে কী? মারে আর টেফীল্ডের বলে রান করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার! শেষ অবধি বাইশ করে আউট হলেন বেক।

সবাইকে চমকে দিয়ে প্যাভিলিয়নের সিঁড়ি দিয়ে তখন নেমে এলেন মিলার। হাততালিতে ফেটে পড়ল তেইশ হাজার দর্শক।

*

কাশির দমকে দমকে রক্ত বেরোনোর পর ডাক্তাররা মিলারকে মাঠে যেতে বারণ করেছিলেন। বুকে আরেকবার লাগলে মৃত্যুও হতে পারে, বলেছিলেন তাঁরা।

পাত্তা দেননি মিলার। একরকম জোর করেই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন।

এবার রুখে দাঁড়ালেন তিনি। রান করলেন মাত্র চোদ্দ, কিন্তু জুটিতে চব্বিশ রান ওঠার ফলে ফলোঅন বাঁচানোর লক্ষ্যে আরেকটু এগিয়ে দিলেন নিউজিল্যান্ড।

কিন্তু দরকার যে আরও চল্লিশ! মূনি আছেন বটে, কিন্তু ব্যাটসম্যান বলতে বাকি যে শুধু দুই টেল-এন্ডার ম্যাকগিবন আর গাই ওভার্টন।

কে বাঁচাবে নিউজিল্যান্ডকে?

*

বাঁ কানের পেছনে অনেকটা ফুলে গেছিল সাটক্লিফের। “ফোলাটার মাপ আমার হাতের মুঠোর সমান,” পরে বলেছলেন নিউজিল্যান্ডের দ্বাদশ ব্যক্তি এরিক ডেম্পস্টার।

তবে হাড় ভাঙেনি, তাই কানের লতিতে সেলাই করে ছেড়ে দিতে চাইলেন ডাক্তার। তবে ঐ, ছাড়ার আগে আরেকবার কানের ফোলা জায়গাটা আঙুল দিয়ে টিপে ধরতে গেলেন।

আর তাতেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন সাটক্লিফ।

এ পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে নামার প্রশ্নই ওঠে না, তাও আবার এলিস পার্কে অ্যাডককের সামনে।

কিন্তু সাটক্লিফকে বোঝাবে কে? যেটুকু দ্বিধা ছিল, জ্ঞান ফেরার পর গলায় খানিকটা স্কচ ঢালতেই সেটুকুও কেটে গেল।

প্যাভিলিয়নে সাটক্লিফকে থামানোর একটা শেষ চেষ্টা করেছিলেন বটে রাবোন। চটজলদি জবাব এল: “স্কোরটা দেখেছ?”

ব্যান্ডেজের ওপর ব্যান্ডেজ, স্তরের পর স্তর। কান দিয়ে রক্ত বেরিয়েই চলেছে। ব্যান্ডেজের ওপর ক্রমশঃ ফুটে উঠছে লাল ছোপ।

ক্রীজে বেশি সময় কাটানোর প্রশ্নই ওঠে না। চল্লিশ রান করা নিয়ে তো কথা!

সাতান্ন রানের জুটি গড়লেন মূনি আর সাটক্লিফ। প্রথম পঞ্চাশ রান এল ঊনচল্লিশ মিনিটে। দু’টো ক্যাচ পড়ল সাটক্লিফের। চারটে ছয় মারলেন তিনি। তারপর আউট হলেন মূনি। টিকলেন না ম্যাকগিবন আর ওভার্টনও।

ন’উইকেট পড়ে গেছে, ব্লেয়র ব্যাট করবেন না, কিন্তু আসল কাজ হয়ে গেছে। ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র একশো সতেরো।

পাঁচ উইকেট নিয়েছেন আয়রনসাইড। মাঠ ছেড়ে বেরোচ্ছেন, স্বভাবতঃই উঠে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানাল গোটা স্টেডিয়ম।

কিন্তু রূপকথার আরেকটা অধ্যায় যে তখনও বাকি!

*

রেডিওয় সব শুনে ইতিমধ্যেই কারকে ট্যাক্সি ডাকতে বলে দিয়েছেন ব্লেয়র। প্যাভিলিয়নে ঢুকেই প্যাড পরতে শুরু করে দিলেন। ততক্ষণে সাটক্লিফের তাণ্ডব শুরু হয়ে গেছে।

ক্রীজে পৌঁছনোর পথে ব্লেয়রের কান্না প্রথম চোখে পড়ে স্কোয়্যারলেগে দাঁড়িয়ে থাকা ম্যাকলীনের। হাততালি থেমে গেছে অনেকক্ষণ।

প্যাভিলিয়নের কাঁচের জানালার সামনে এসে দাঁড়িয়ে তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছে নিউজিল্যান্ডের গোটা দল। চোখের জল লুকোনোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করছেন না কেউ।

এগিয়ে এলেন সাটক্লিফ। হাত রাখলেন ব্লেয়রের কাঁধে।

“এখানে বেশিক্ষণ থাকার কোনও মানে হয় না, বলো? হাত খুলে মারতে শুরু করি বরং। কী আর হবে? বড়জোর আউট হব।”

*

ওভার শেষ। বল করতে এলেন টেফীল্ড।

প্রথম চার বলে তিনটে ছয় মারলেন সাটক্লিফ। ফেটে পড়ল গোটা মাঠ, বিশেষতঃ লংঅনের পেছনে বসে থাকা দর্শকরা।

এখানে একটা কথা বলা দরকার। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্য তখন তুঙ্গে। সারা মাঠে ছোট্ট একটা অংশে বসার অনুমতি ছিল অশ্বেতাঙ্গদের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যারা খেলত, এরা সাধারণতঃ তাদেরই সমর্থন করত।

মৃত্যুভয় অগ্রাহ্য করে মাথা ব্যান্ডেজে ঢেকে নেমে যদি বিপক্ষের ব্যাটসম্যান চার বলে তিনটে ছয় মারায় কী হয়েছিল, বলাই বাহুল্য।

একটা রান নিলেন সাটক্লিফ। চোয়াল শক্ত করে হাতটা চোখের ওপর একবার বুলিয়ে নিলেন ব্লেয়র।

এই ছয়টা গেল মিডউইকেটের ওপর দিয়ে।

এর আগে টেস্ট ক্রিকেটে কখনও এক ওভারে পঁচিশ রান ওঠেনি। তাও আবার টেফীল্ডের ওভারে! আট বলের ওভার, তবে পরের দু’বলে রান না হওয়া সত্ত্বেও রেকর্ড বজায় থাকল বৈকি!

সাতচল্লিশ বছর অক্ষত ছিল সাটক্লিফের রেকর্ড।

টেফীল্ড কে সেটা এখন একটু জানা দরকার। টেস্টে ওভারপিছু তিনি রান দিয়েছিলেন দু’য়েরও কম। ইংল্যান্ডের সঙ্গে একবার টানা ১৩৭ বলে কোনও রান দেননি টেফীল্ড। শুধু টেস্ট নয়, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও এটা বিশ্বরেকর্ড।

তবে ঐ ছ’রানের মাথায়ই স্টাম্পড হলেন ব্লেয়র, টেফীল্ডের পরের ওভারে। ছেষট্টি বলে তিপ্পান্ন রান দিলেন টেফীল্ড: টেস্ট ক্রিকেটে এত মার তিনি আর কখনও খাননি।

চারটে চার, সাতটা ছয় মেরে ১১২ মিনিটে আশি করে অপরাজিত রইলেন সাটক্লিফ। ব্লেয়রের সঙ্গে জুটিতে উঠল তেত্রিশ রান – মাত্র দশ মিনিটে।

পরস্পরের কাঁধে হাত রেখে যখন মাঠ থেকে বেরোচ্ছেন সাটক্লিফ আর ব্লেয়র, মাঠে তখন কান পাতা দায়।

রূপকথা ছাড়া আবার কী?

*

তারপর? ও হ্যাঁ, খেলার কী হল বলা দরকার বোধহয়। রীড আর ম্যাকগিবনের সামনে ৬৭ রানে ছ’উইকেট হারিয়ে বসলেও শেষ অবধি ১৪৮ তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দু’শো বত্রিশ করতে হত নিউজিল্যান্ডকে। তৃতীয় দিনের শেষে তিন উইকেট হারিয়ে ৬৮ তোলে তারা। পরের দিন সকালে অবশ্য মাত্র ১০০ রানেই ফুরিয়ে যায় তাদের ইনিংস।

Thursday, August 22, 2019

রবীন্দ্রনাথ ও ক্রিকেট

ছবিটা অংশুমান চ্যাটার্জির থেকে ঝাড়া
অযথা না ফেনিয়ে প্রথমেই আশ্বস্ত করছি, রবীন্দ্রনাথ ক্রিকেট খেলতেন। ১৯৬২ সালের ৩রা জানুয়ারি আনন্দবাজারে জগদীশচন্দ্র রায়ের লেখা চিঠি এর সবথেকে বড় প্রমাণ। চিঠিটার একটা অংশ শঙ্করীপ্রসাদ বসু “সারাদিনের খেলা”য় উদ্ধৃত করেছেন। আমি সেটা হুবহু টাইপ করে দিচ্ছি।

“১৯নং স্টোর রোডে (বালীগঞ্জ) স্বর্গীয় সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় থাকতেন। তিনি তাঁর পেনসনের সমস্ত টাকাটাই দেশের জন্য খরচ করতেন। বিশেষ করে পালোয়ানদের ও লাঠিয়ালদের মাহিনা দিয়ে দক্ষিণ কলকাতার ছোট-ছোট ছেলেদের সংগঠন [sic?] ও শক্তিশালী করতেন। রবীন্দ্রনাথ জোড়াসাঁকো থেকে সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত এসে খেলায় যোগ দিতেন।

১৯নং স্টোর রোডের সামনেই মিলিটারী মাঠ; সেই মাঠের একপাশে তখনকার দিনের ভারত-বিখ্যাত সাহেবদের ক্রিকেট-ক্লাব। ঐ ক্লাবে ভারতীয়দের সভ্য হবার কোন উপায় ছিল না, তাঁরা যতই বড় হউন না কেন।

কোনো একদিন ঐ ক্লাবের ক্রিকেট-খেলা দেখে রবীন্দ্রনাথ তাঁর মেজদাদাকে বলেন। সত্যেন্দ্রনাথ তাঁর ম্যানেজার মিঃ ভোগেল এবং আমাকে ব্যাট, বল, নেট প্রভৃতি কিনতে পাঠিয়েছিলেন। ঐ সঙ্গে বলে দেন – ভারতীয় দোকান থেকে জিনিস কিনতে। আমরা এস্‌প্ল্যানেডের উত্তর দিকের দোকান থেকে সমস্ত জিনিস কিনে ফিরি। তার পরদিন থেকেই খেলা আরম্ভ হয়। সত্যেন্দ্রনাথ দুই জন অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ানকে মাইনে দিয়ে খেলা শিখাবার জন্য নিযুক্ত করলেন। রবীন্দ্রনাথ জোড়াসাঁকো থেকে প্রত্যহই খেলা দেখতে ও খেলতে আসতেন। রবীন্দ্রনাথের এই খেলা কিন্তু মোটেই ভাল লাগেনি। তার কারণ একদিন খেলতে-খেলতে একটা বল তাঁর পায়ে লাগে এবং তিনি জখম হন। তাছাড়া ক্রিকেট খেলার যা বিশেষ দরকার, তা তাঁর ছিল না। অর্থাৎ তিনি তাঁর মন ও চোখ ঠিক রাখতে পারতেন না। প্রায় তিন মাস পরে ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয় খেলা লাঠি নিয়ে থাকতেন। তাঁর দাদা অবশ্য বৃদ্ধ বয়সেও ক্রিকেট খেলতেন।

কাজেই তিনি যে খেলতেন, তা নিয়ে সন্দেহের বিশেষ অবকাশ নেই, তবে এটা ঠিক কবে সে ব্যাপারে সঠিক কিছু জানা যায়নি।

পায়ের চোটটা কতটা সিরিয়স সে ব্যাপারে ইতিহাস মোটামুটি নীরব। আশাকরি আলখাল্লাটা চোট লুকোনোর জন্য পরা শুরু করেননি। 

তবে জগদীশবাবুর লেখা পড়ে মনে হয় যে চোটটা গৌণ কারণ। ক্রিকেট যে কেবলই যাতনাময় হতে পারেনা সেটা উনি নির্ঘাত বুঝেছিলেন। বাহির-পানে চোখ মেলা আর পোষাচ্ছিল না সম্ভবতঃ।

দেখাই যাচ্ছে যে বিশেষ সুবিধে করে উঠতে পারেননি, অবশ্য পারলেও বেশিদূর এগোতে পারতেন না। ক্রিকেটের চর্চা রায়বাড়িতে হত, ঠাকুরবাড়িতে নয়।

যা হয়েছে ভালই হয়েছে। এতটাই এন্টারপ্রাইজিং যে ক্রিকেটটা সিরিয়সলি নিলে নির্ঘাত কিছু একটা করে বসতেন। আইপিএলে হয়ত দলের নাম হত কলকাতা আরএনটিজ। 

ভাগ্যিস খেলেননি। অতগুলো মণিহার একসঙ্গে ম্যানেজ করতে পারতেন না।

আর কিছু না হোক, বর্ষার গানগুলো যে লিখতেন না সেটা জোর দিয়েই বলা যায়।

*

খেলা ছাড়লেও আদৌ খবর রাখতেন কি ক্রিকেটের? পড়তেন? ভাবতেন? আকাশে পাতিয়া কান খোঁজ নিতেন কী হচ্ছে না হচ্ছেন? নাকি নীল পদ্মের মতই নিভৃতে থেকে যেত ক্রিকেট?

ক্রিকেট নিয়ে কয়েকটা লেখা লিখলে পারতেন অবশ্য। ব্র্যাডম্যানকে আদৌ পছন্দ করতেন বলে মনে হয় না, মহাপঞ্চক গোছের কিছু বলে বসতেন হয়ত। বা হয়ত “বোঝা তোর ভারী হলে ডুববে তরীখান” গোছের কিছু গেয়ে উঠতেন।

না না, রবীন্দ্রনাথ লিখলে ট্রাম্পার বা রনজিকে নিয়েই লিখতেন।

দু'টো ঘটনা এখানে বলা আবশ্যক। বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদিগকে অভ্যর্থনা করিবার জন্য” একবার একটা সভার আয়োজন করেন। সেটা বৈশাখ ১৩১২। অর্থাৎ এপ্রিল বা মে ১৯০৫।

বক্তৃতা দিতে এসে রবীন্দ্রনাথ এক জায়গায় বললেন আজ সাহিত্য-পরিষৎ আমাদিগকে যেখানে আহ্বান করিয়াছেন তাহা কলেজ-ক্লাস হইতে দূরে, তাহা ক্রিকেট-ময়দানেরও সীমান্তরে, সেখানে আমাদের দরিদ্র জননীর সন্ধ্যাবেলাকার মাটির প্রদীপটি জ্বলিতেছে।

সে বললেন বেশ করলেন, এটা তেমন মারাত্মক কিছু নয়। কিন্তু আসল বোমাটা তিনি এই বক্তৃতায় ইতিমধ্যেই ফেলে বসে আছেন, এর ঠিক আগে: দিনের পড়া তো শেষ হইল, তার পরে ক্রিকেট খেলাতেও নাহয় রণজিৎ হইয়া উঠিলাম। তার পরে?

আপাতঃদৃষ্টিতে এটা মারাত্মক কিছু মনে না হলেও একটা চিন্তা মাথায় ঢুকেই গেল। রণজিৎ মানে নেহাৎই যুদ্ধে (ক্রিকেট ম্যাচে) জয়ী? নাকি রণজিৎসিংজি?

আগেই বলেছি, এটা ১৯০৫। তার আগের ছ'বছরে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে রীতিমত অগ্নিকাণ্ড ঘটাচ্ছেন রনজি। হোভে ঈস্টবোর্নে হেস্টিংসে শুধু নয়, লর্ডসে ওভালেও ব্যাট হাতে ভৈরব হরষে রান করে চলেছেন। এর মধ্যে চার বছর সাসেক্সের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। ১৯০২এ গড় সামান্য নামলেও সে তেমন কিছু নয়।

বক্তৃতার আগের বছর, অর্থাৎ ১৯০৪এ, দশ সপ্তাহের একটা অধ্যায়ে তিনি আটটা সেঞ্চুরি, পাঁচটা পঞ্চাশ করেছিলেন। 

তারপর প্রায় চার বছর ভারতে ছিলেন রনজি। ১৯০৫ সালের মে মাসে (অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতার সময়েই) মনসুর খচর বম্বে হাইকোর্টে রনজির নামে কেস করেন, তবে সে অন্য গল্প। তবে মামলা-মোকদ্দমার ঠেলায় গোটা বছরটাই রঞ্জিকে দেশে কাটাতে হয়।

সন্দেহটা ঘনীভূত হওয়ার আরেকটা কারণ হল যে রবীন্দ্রনাথ রনজির ব্যাপারে বিলক্ষণ জানতেন। চৈত্র ১৩০৮এ (অর্থাৎ মার্চ বা এপ্রিল ১৯০২) একটা প্রবন্ধ (সম্ভবতঃ) লিখেছিলেন, নাম বারোয়ারি-মঙ্গল”। সেখানে লিখেছেন রামমোহন রায় আজ যদি ইংলণ্ডে যাইতেন তবে তাঁহার গৌরব ক্রিকেট-খেলোয়াড় রঞ্জিতসিংহের গৌরবের কাছে খর্ব হইয়া থাকিত।

১৯০০ আর ১৯০১ রনজির স্বর্ণযুগেও একেবারে চব্বিশ ক্যারাট। 

*

কিন্তু এ তো গেল রনজি নিয়ে বক্তৃতা প্রবন্ধ। মেনস্ট্রিমে ক্রিকেট কি একেবারেই নেই? চিরকুমার সভার দ্বিতীয় অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যে শ্রীশ দিব্যি বলছে: তোমরা যে দিনরাত্রি ফুটবল টেনিস ক্রিকেট নিয়ে থাক, তোমরা একবার পড়লে ব্যাট্‌বল গুলিডাণ্ডা সবসুদ্ধ ঘাড়-মোড় ভেঙে পড়বে।

ব্যাটবলের প্রসঙ্গে পরে আসছি। তার আগে “গোরা” থেকে কয়েকটা উদ্ধৃতি দিই:

“এখানকার মেলা উপলক্ষেই কলিকাতার একদল ছাত্রের সহিত এখানকার স্থানীয় ছাত্রদলের ক্রিকেট-যুদ্ধ স্থির হইয়াছে। হাত পাকাইবার জন্য কলিকাতার ছেলেরা আপন দলের মধ্যেই খেলিতেছিল। ক্রিকেটের গোলা লাগিয়া একটি ছেলের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।”

সর্বনাশ, আবার পায়ে চোট কেন? আত্মকথা লিখছিলেন নাকি? আর এতদিন বল বল লিখে হঠাৎ ১৯১০এ এসে গোলা কেন?

পরে আবার ছাত্ররা গোরাকে চিনিত – গোরা তাহাদিগকে লইয়া অনেকদিন ক্রিকেট খেলাইয়াছে।

এসবের বেশ কিছু পাতা আগে “ধাপার মাঠে শিকারির দলে নন্দর মতো অব্যর্থ বন্দুকের লক্ষ কাহারো ছিল না। ক্রিকেট খেলায় গোলা ছুঁড়িতেও সে অদ্বিতীয় ছিল। গোরা তাহার শিকার ও ক্রিকেটের দলে ভদ্র ছাত্রদের সঙ্গে এই-সকল ছুতার-কামারের ছেলেদের একসঙ্গে মিলাইয়া লইয়াছিল।

*

ইংরাজি সহজশিক্ষার Chapter 38এ for শেখাতে গিয়ে the potter makes a cup for his father” জাতীয় কয়েকটা একই ধরনের বাক্য ব্যবহার করেছেন। এরই একটা হল the boy takes his bat for a game.

মজার ব্যাপার, এই ব্যাটবাহক বালক ছাড়া চ্যাপ্টারে বাকি সবাই হয় কাজ বা পড়াশুনো করছে। এরই শুধু অখণ্ড অবসর।

*

এই অদ্ভুত বিষয়ে লেখা শুরু করার কারণটা আগে বলি। আমি রবীন্দ্রনাথের কয়েকটা অখ্যাত লেখা  পড়ছিলাম। অখ্যাত মানে আমার কাছে অচেনা, আমি নিশ্চিত যে অনেকেই বলে দেবে কোন্‌ লেখাটা কী খেয়ে কোথায় বসে কোন্‌ কলমে লেখা। তখনই নারীপ্রগতি কবিতাটা পড়তে পড়তে হকচকিয়ে যাই, বিশেষ করে এই লাইনগুলো:

তোমাদের গজগামিনীর দিনে
কবিকল্পনা নেয় নি তো চিনে;
কেনে নি ইস্‌টিশনের টিকেট;
হৃদয়ক্ষেত্রে খেলে নি ক্রিকেট;
চণ্ড বেগের ডাণ্ডাগোলায় –
তারা তো মন্দ-মধুর দোলায়
শান্ত মিলন-বিরহ-বন্ধে
বেঁধেছিল মন শিথিল ছন্দে।

চণ্ড বেগের ডাণ্ডাগোলা” মনে হয় না আর কেউ কখনও ব্যবহার করেছেন।

*

ব্যাটবলের ব্যাপারে বলব বলেছিলাম। সহজ পাঠের দ্বিতীয় ভাগের দ্বিতীয় ভাগে যেখানে য্‌-ফলা শেখানো হচ্ছে, সেখানে আছে অগত্যা বাইরে ব’সে আছি। দেখছি, ছেলেরা খুশী হয়ে নৃত্য করছে। কেউ বা ব্যাটবল খেলছে। নিত্যশরণ ওদের ক্যাপ‍্‌টেন।

এই ব্যাটবল কি ক্রিকেট? ক্যাপ্‌টেন আছে যখন, ক্রিকেট হতেই পারে (জানি, অত্যন্ত বাজে যুক্তি), কিন্তু একটা খটকা থেকেই যায়। “ছেলেবেলা”য় স্পষ্ট লেখা আছে: তখন খেলা ছিল সামান্য কয়েক রকমের। ছিল মার্বেল, ছিল যাকে বলে ব্যাটবল – ক্রিকেটের অত্যন্ত দূর কুটুম্ব। আর ছিল লাঠিম-ঘোরানো, ঘুড়ি-ওড়ানো। শহরে ছেলেদের খেলা সবই ছিল এমনি কম্‌জোরি। মাঠজোড়া ফুটবল-খেলার লম্ফঝম্ফ তখনো ছিল সমুদ্রপারে।

এটা খুব অস্বস্তিকর। মাঠের অভাবে ফুটবল হত না, তাই ক্রিকেট হওয়ার প্রশ্নই উঠছে না। ডাংগুলিও নয়, কারণ আমরা আগেই শ্রীশকে ব্যাটবল আর গুলিডাণ্ডা আলাদাভাবে বলতে দেখেছি। কাজেই ডাংগুলির ডাণ্ডা আর গুলিকে আদৌ ব্যাট-বল বলা হত না।

ব্যাটবলের কথা “যোগাযোগ”এও ছিল: “বিপ্রদাস বাল্যকালে যে ইস্কুলে পড়ত সেই ইস্কুলেরই সংলগ্ন একটা ঘরে বৈকুণ্ঠ ইস্কুলের বই খাতা কলম ছুরি ব্যাটবল লাঠিম আর তারই সঙ্গে মোড়কে-করা চীনাবাদাম বিক্রি করত।”

ব্যাট আর বল এত সহজলভ্য ছিল তখন যে বাদামের সঙ্গে একই দোকানে পাওয়া যেত? নাকি এই ব্যাটবল ক্রিকেটের ব্যাট আর বল নয়, সেই রহস্যময় ব্যাটবল” খেলার ব্যাট আর বল?

হয়ত। হয়ত নয়। অত না জানলেও চলবে। ক্রিকেট খেলতেন, জানতেন, বুঝতেন, এতেই আমি ধন্য। দু'-একটা খটকা থাক। মাঝে মাঝে তার ছিঁড়তেই পারে, তাতে অত হাহাকার করার কিছু নেই।

*

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:
tagoreweb.in
শঙ্করীবাবুর বইয়ে ঐ চিঠিটা

*

পুনশ্চ:
সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় যথারীতি এই একই বিষয়ে কাজকর্ম করে রেখেছে। এখানে ওর লেখার লিঙ্ক রইল। দু'টো লেখার নাম এক হওয়াটা নেহাৎই সমাপতন।

Friday, May 11, 2018

Known for great conversation



Chances are that you have not heard of Harold Gimblett. I won’t blame you if you haven’t. He’s too niche a subject to be savoured if you are not a hardcore cricket fan.

Note:
In the unlikely case that you are really, really interested, you may want to read this to get a basic idea of his biographiability.

However, this is at best indirectly about Gimblett. This concerns David Foot’s biography of Gimblett, as wonderful book a book as any written on the sport. It’s completely worth it.

This also concerns me. In fact, I am the protagonist of the tale.

Since I travel for at least an hour a day, I prefer to split my reading. My backpack always carries a cricket book, while I read on cricket at home only for reference. The arrangement suits me.

It was Bombay-May hot and humid the other day, which made me compromise on speed for comfort. I was supposed to show up late, so I decided on Uberpool.

I should have been more careful. When I booked the cab, the app warned me that the driver was “known for great conversation”. If only I had chosen to act accordingly.

I was also told that there were two others, which almost invariably meant a front seat for me. That isn’t a problem per se — but on this occasion I was thrust into the front left corner of the car, next to a person who thrives on chirping.

I decided to play safe. I started reading Foot’s book within a minute. Even checking the arrival time was out of the question. The trip was afoot.

The man to my right was obviously disappointed, but I could really care less. He went into what he definitely thought was an intriguing conversation in Marathi with my unfortunate co-passengers, destined to endure half an hour’s suffering.

This will teach them to carry a book next time.

Then that dreaded moment arrived: they got down before me. I contemplated escaping to the backseat but decided against it. It would have been too rude, no?

I could sense the driver (let me call him X) casting impatient glances at me. I stayed put. I was getting uneasy — uneasy enough to not being able to focus on Somerset cricket of the 1930s.

Minutes passed by.

I could sense something brewing. I could feel he wouldn’t be able to hold himself back any longer.

I flipped a page. Regular readers of non-fiction (not motivational nonsense, but factual non-fiction) will know that the photographs are stacked together for the benefit of the publishers.

This was that page, the one with photographs of cricketers — Gimblett included — in various modes of action and inaction. And then the car stopped at a signal.

He couldn’t hold himself back. It is difficult to read a neighbour’s book if he holds it strategically, but it’s not as huge a challenge to look at the photographs.

He has seen the photographs. He will try to pick up a conversation. I can sense it. I can sense it.

The inevitable happened: “Ye saare cricketer log ke baare mein likha hai?”

Cricketer-log. That was precisely the phrase he used.

I nodded.

Focus. Focus. Focus, Abhishek, focus.

The signal turned green (I hope it did, for the car started moving). It was impossible for me to concentrate at that point. I cast a glance at the man.

He is thinking. He is thinking something.

“Aap cricket ka kitaab kyun padhte ho?”

Dang! How is one supposed to answer that?

He sized me up. Of course, I had neither the age nor the girth of an athlete, so being a cricketer was out of the question.

Cricket writers probably do not exist in his universe. They are too peculiar to exist in any universe anyway, but let us not get into that.

“Aap coach ho.”

It was not a question. It was a statement — a statement with a finality so decisive that I almost believed him.

I could see him nodding and smiling in the most ha-got-you way imaginable to mankind.

“Mera beta dus saal ka hai. Aap use sikhaoge?”

My heart went out to the poor boy. Coexisting with a father who enjoyed conversation was torture enough, but this?

He concluded as we approached our destination: “Mere paas to aap ka number hai. Main aap ko call kar loonga.”

I looked down at my phone instinctively.

He might have won the first battle, but it’s going to be an uphill task for him. My cell-phone is also equipped to save numbers, you see.

Saturday, November 5, 2016

Tendulkar, teenage, etc

I would have remembered Sachin Tendulkar’s debut vividly had Doordarshan telecast it live. They caught up from the third Test, but no one in India got to see the debut live.

Tendulkar had fans from the very beginning. Unlike Gavaskar and Kapil, among whom the fans were divided, Tendulkar was universally loved. Men, women, boys, girls, rich, middle-class, poor.

Tendulkar was India's first universally accepted cricket hero.

Tendulkar became a household name, and more importantly, a household face, in the early 1990s, an era that matched with my teens.

The adulation was fine with me, but for one section of them: the mothers.

The mothers had a curious attitude towards Tendulkar. They often expressed themselves in baby-talk when it came to Tendulkar. There were some who did not, but the affection, the concern was there in most.

They wanted him to be well-fed. They wanted him to be safe on tours. He was suddenly the son of thousands of mothers. You would have thought he was a little boy (of course, that boyish look sans facial hair helped).

This baffled me, for Tendulkar is older to me.

My mother, for example, always thought Tendulkar was a boy who needed to be taken care of while I was the "when will you act your age?" one.

I should ideally have felt jealous. I would have, had I understood what was going on. I was baffled.

And all that vanished around the mid-1990s, when he was, well, a "grown-up"; I am not sure when, but that was the approximate era.

Trust me, this had happened across households, across the nation, to boys of my age.

I never got the reason. I still do not get it. Why would one be concerned about someone who is taken care of, efficient, and successful?

While I admired Tendulkar as much as any boy of my age did, this kept bugging in my mind.

I had vowed to myself that *I* would confuse my daughter the same way when she is in her teens.

I sincerely hope she makes the same vow when she understands my feelings for Kohli.

Happy birthday, little Virat. Happy birthday, captain.

Thursday, January 22, 2015

Surprised by Bradman

I have been criticised heavily by all and sundry for not having read Alban George "Johnny" Moyes' 1948 book on Don Bradman (the book was, perhaps in a dash of imagination, titled Bradman). 

Finally I could not take it anymore. I logged on to abebooks.co.uk and ordered what was supposed to be a masterpiece. It cost me around £5 including shipping, which was certainly a fair deal.


This is what they sent me. This. They had mentioned that the dust-jacket was missing, but I had expected it to be in a better condition than this. But then, a book was a book, which meant I had no right to complain.

I flipped open the book to land on this page, and smiled the moment I saw a familiar face — that of the greatest of them all — smiling back at me.


I moved back to the first page the way I often do for secondhand books. While there was no way I would have found anything on the lines of RAHUL LOVES PRIYA, there is usually some message that tells something about the previous owner.

I did, and saw this.


What was it they say about cricket being a great leveller?

***

Photo courtesy: Tulika Bhattacharya.

Followers